নবী ﷺ এমন এক সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন, যাকে তিনি প্রতারণাময় যুগ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এই সময়ের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, ‘রুওয়ায়বিযা’ কথা বলবে। যখন এ শব্দের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়, তিনি বলেন, এটি এমন এক তুচ্ছ ও অযোগ্য ব্যক্তি, যে সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে শুরু করে।
এই বাস্তবতা আজকের সমাজে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। অনেক সময় এমন লোক সামনে আসে, যাদের না আছে পর্যাপ্ত জ্ঞান, না আছে চরিত্রগত পরিপক্বতা, না আছে শালীনতা; তবুও তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলে, বিশেষ করে শরিয়াহ, রাজনীতি কিংবা উম্মাহর জটিল সংকটের বিষয়ে। অথচ এসব বিষয় এমন নয়, যা যে কেউ ইচ্ছা করলেই বিশ্লেষণ করতে পারে। এগুলো গভীর জ্ঞান, সূক্ষ্ম ফিকহ এবং বাস্তবতা অনুধাবনের শক্তি দাবি করে।
কুরআন আমাদেরকে এ বিষয়ে একটি মৌলিক নীতি শিখিয়েছে, যখন নিরাপত্তা বা ভয়ের কোনো সংবাদ মানুষের কাছে আসে, তখন তা যাচাই-বাছাই না করে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং তা রাসূল ﷺ এবং দায়িত্বশীল ও জ্ঞানীদের কাছে ফেরত দেওয়া উচিত, যাতে যারা বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম, তারা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। কারণ ইস্তিনবাত বা গভীরভাবে বিধান নির্ণয় করা সবার কাজ নয়; এটি কেবল প্রতিষ্ঠিত আলেমদের দায়িত্ব।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, কিছু মানুষ প্রতিটি ঘটনা বা সংকটকে কেন্দ্র করে কথা বলতে শুরু করে। তারা অনেক সময় মানুষের আবেগকে উসকে দেয়, নিজেদের চিন্তাধারা প্রচার করে এবং উম্মাহর দুর্বলতা ও কষ্টের সময়কে ব্যবহার করে। বাহ্যিকভাবে তারা ন্যায় বা নিপীড়িতদের পক্ষে কথা বলার দাবি করলেও, তাদের বক্তব্যে জ্ঞানের দৃঢ় ভিত্তি থাকে না।
এই প্রেক্ষাপটে হযরত আলী ইবনু আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর একটি গভীর উক্তি স্মরণীয়। তিনি বলেন, মানুষ মূলত তিন শ্রেণির- একজন রব্বানী আলেম, একজন মুক্তির পথে থাকা জ্ঞান-অন্বেষী, এবং তৃতীয় দল হলো অজ্ঞ জনতা, যারা যে কোনো আহ্বানের পেছনে ছুটে চলে, জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত এবং দৃঢ় ভিত্তিহীন।
এই বাস্তবতা থেকে মুক্তি পেতে হলে একজন মুমিনের উচিত নিজের দ্বীন ও আকীদা রক্ষার জন্য সতর্ক থাকা। কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, যোগ্য আলেমদের অনুসরণ করা, এবং আবেগতাড়িত ও দায়িত্বহীন বক্তব্য থেকে দূরে থাকা। বিশেষ করে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়, যা বৃহত্তর অস্থিরতা ও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
নবী ﷺ আমাদেরকে ধৈর্যের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি কেউ তার নেতার কোনো বিষয় অপছন্দ করে, তবে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং আনুগত্যের বন্ধন ছিন্ন না করে। কারণ বিশৃঙ্খলা ও বিদ্রোহের ফলে যে ক্ষতি হয়, তা অনেক সময় অন্যায়ের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়ায়।
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো সচেতনতা, জ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনা এবং সংযম। সব বিষয়ে কথা বলা প্রজ্ঞার পরিচয় নয়; বরং কখন চুপ থাকতে হবে, সেটিও জ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যে ব্যক্তি জ্ঞানের আলোতে পথ চলে, সে বিভ্রান্তি থেকে নিরাপদ থাকে; আর যে আবেগ ও অজ্ঞতার অনুসরণ করে, সে নিজেও পথভ্রষ্ট হয় এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করে। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে বুঝার তৌফীক্ব দান করুন। আমীন!






![সালাতে অন্তরের উপস্থিতির [মনোযোগ] গুরুত্ব](https://alilmbd.com/wp-content/uploads/2026/10/রাসূলুল্লাহ-ﷺ-দাফনের-পর-কবরের-পাশে-দাঁড়িয়ে-বলতেন-350x250.jpg)






