الفرق بين الحمد والشكر
হামদ ও শুকর এর মাঝে পার্থক্য-
ইসলামী পরিভাষায় الحمد (হামদ) ও الشكر (শুকর) এই দুইটি শব্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রায়শই একে অপরের নিকটবর্তী অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এদের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, যা আলিমগণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
প্রথমত হামদ বলতে বোঝায়, কোনো সত্তার প্রশংসা করা তার গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যের কারণে; তা সে গুণ স্বভাবগত হোক বা অন্যের উপকারে আসুক। অর্থাৎ, কারো জ্ঞান, সাহস, দয়া বা উদারতার জন্য তাকে প্রশংসা করা সবই হামদের অন্তর্ভুক্ত। তবে হামদ মূলত কেবল ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
অন্যদিকে, শুকর হলো কোনো অনুগ্রহ বা নিয়ামতের প্রতিদানে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। এটি শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং অন্তরের অনুভূতি, জিহ্বার স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। অর্থাৎ, হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা, মুখে প্রশংসা এবং কাজে সেই নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহার সবই শুকরের অন্তর্ভুক্ত।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, হামদ ও শুকরের মধ্যে عموم وخصوص من وجه বা আংশিক সাধারণতা ও বিশেষত্বের সম্পর্ক রয়েছে।
হামদ ব্যাপক, কারণ এটি নিয়ামত ছাড়াও ব্যক্তির স্বভাবগত গুণাবলীর উপর করা যায়। তবে এটি সীমিত, কারণ তা কেবল ভাষার মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।
শুকর সীমিত, কারণ এটি কেবল নিয়ামতের ক্ষেত্রেই করা হয়। তবে এটি ব্যাপক, কারণ তা অন্তর, ভাষা ও কর্ম সবকিছু দ্বারা প্রকাশিত হয়।
ইমাম ইবনুল কইয়্যিম رحمه الله এই বিষয়টি আরও সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, শুকর তিনভাবে সম্পন্ন হয়। যথা-
১. অন্তরে বিনয় ও স্বীকৃতি,
২. জিহ্বায় প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা,
৩. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে আনুগত্য ও সঠিক ব্যবহার।
আর হামদ এটি মূলত অন্তর ও জিহ্বার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, তবে এর ক্ষেত্র বিস্তৃত; কারণ এটি মহান আল্লাহর সত্তাগত গুণাবলীর উপরও করা হয়, যেমন তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ন্যায়বিচার ইত্যাদি।
সুতরাং সংক্ষেপে বলা যায়, হামদ হলো সর্বপ্রকার গুণের প্রশংসা, যা ভাষার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আর শুকর হলো নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা, যা অন্তর, জিহ্বা ও কর্ম সবকিছুর মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
অতএব, একজন মুমিনের জন্য পরিপূর্ণতা হলো, সে মহান আল্লাহর প্রতি হামদ ও শুকর উভয়ই আদায় করবে; তাঁর গুণাবলীর জন্য প্রশংসা করবে (হামদ) এবং তাঁর দেওয়া নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহার ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে (শুকর)।
মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আন্তরিক মোবারকবাদ। ইলম অর্জনে লেখাটি অন্যকে ছড়িয়ে দিতে কার্পণ্য করবেন না। বারাকাল্লাহু ফিকুম!
২ শাওয়াল, ১৪৪৭/ ২২ মার্চ, ২০২৬
আল-ইলম ইন্সটিটিউট রাজশাহী-৬২০৩।