শিক্ষা, পরিচয় ও আমাদের ভবিষ্যৎ-
শিক্ষা আমাদেরকে কোথায় নিয়ে যাবে?
এই প্রশ্ন কেবল জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্য নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের দিকনির্দেশনার প্রশ্ন। শিক্ষা এমন এক শক্তি, যা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসে, অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানে পৌঁছে দেয়, দাসত্ব থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতার স্বাদ দেয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো আমাদের শিক্ষা আজ কোথায় দাঁড় করিয়েছে? আমরা কোন পরিচয় নিয়ে বড় হচ্ছি? আর কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব এই ধ্বংসস্তূপের হতাশা থেকে?
(এক) শিক্ষা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে?
শিক্ষা আমাদের গন্তব্য ঠিক করে থেয। যদি শিক্ষা কেবল চাকরি পাওয়ার মাধ্যম হয়, তাহলে আমরা ভোগবাদী ভাড়াটে প্রজন্ম তৈরি করব। আর যদি শিক্ষা হয় মানুষ গড়ার, আল্লাহভীরু ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির হাতিয়ার, তাহলে শিক্ষা আমাদের নিয়ে যাবে সম্মান, মর্যাদা ও নেতৃত্বের আসনে। কেননা সঠিক শিক্ষা মানুষকে আত্মমর্যাদা শেখায়। জাতিকে মুক্তির পথ দেখায়। এবং সভ্যতা গড়ার ভিত্তি স্থাপন করে।
(দুই) কী হবে আমাদের পরিচয়?
আজ আমরা পশ্চিমা সংস্কৃতির ভিড়ে বিভ্রান্ত। আমরা মুসলিম, কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কি আমাদেরকে ইসলামী পরিচয় জাগ্রত করছে? পরিচয় হারিয়ে গেলে জাতি টিকে না। আমাদের শিক্ষা যদি কুরআন-সুন্নাহর আলোয় গড়ে ওঠে, তবে আমাদের পরিচয় হবে- আমরা মহান আল্লাহর বান্দা, আমরা উম্মতে মুহাম্মদী, আমরা ন্যায়ের পতাকাবাহী। আর এই পরিচয়ই আমাদেরকে পৃথিবীতে সম্মানিত করবে এবং আখিরাতে মুক্তি দেবে ইনশাআল্লাহ।
(তিন) কীভাবে আমরা ঘুরে দাঁড়াব ধ্বংসস্তূপের হতাশা থেকে?
হতাশা আমাদের জন্য বিষ। আমরা শত সংকটে থেকেও কখনো হাল ছাড়ব না ইনশাআল্লাহ। কারণ মহান আল্লাহর ওয়াদা হলো- إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই আছে স্বস্তি’ (ইনশিরাহ: ৬)। এক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়াতে হলে প্রয়োজন- (১) আত্মবিশ্বাস: আমরা পারব, আমাদের প্রজন্ম পারবে। (২) আদর্শ শিক্ষা: কুরআনের চেতনা সাথে আধুনিক বিজ্ঞান। (৩) সংগঠিত শক্তি: একক প্রচেষ্টায় নয়, বরং সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে। (৪) মহান আল্লাহর উপর ভরসা: হতাশা নয়, তাওয়াক্কুলই মুক্তির পথ।
(চার) কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ-
আমাদের লক্ষ্য শুধু ডিগ্রি নয়, কিংবা শুধু চাকরি নয়, বরং ইলম ও আমলের সমন্বয়ে একটি সভ্য জাতি গড়া। তরুণ প্রজন্মকে চরিত্রবান নেতা ও আলেমে রব্বানী হিসেবে প্রস্তুত করা। এবং সমাজ থেকে অজ্ঞতা, অন্যায় ও ভ্রান্ত চিন্তার শিকড় উপড়ে ফেলা। শিক্ষা যদি হয় কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত, তবে সেটিই হবে আমাদের মুক্তির সিঁড়ি। শিক্ষা যদি হয় আত্মপরিচয়ের সাথে যুক্ত, তবে সেটিই আমাদের জাতিকে পুনর্জাগরণের পথে দাঁড় করাবে।
শিক্ষা আমাদের হাতে এক দ্বিমুখী তলোয়ার। চাইলে এটি দিয়ে আমরা নিজেদের ধ্বংস করতে পারি, আবার চাইলে সভ্যতা নির্মাণ করতে পারি। এখন সিদ্ধান্ত আমাদের- আমরা কি ভোগবাদী শিক্ষা বেছে নেব, নাকি আদর্শিক শিক্ষা দিয়ে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলব? অবশ্যই দ্বীনী শিক্ষাই আমাদের মুক্তির পথ। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হৌন। আমীন!