সুন্নাহর প্রামাণিকতা (হুজ্জিয়্যাতুস-সুন্নাহ) বিষয়ে আমাদের করণীয়-
বর্তমান সময়ে মুসলিমদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো নবীজির সুন্নাহর প্রামাণিকতা সম্পর্কে গভীরভাবে অধ্যয়ন করা। কারণ সুন্নাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহী, যেমন কুরআনও ওহী। আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি (নবী) নিজের খেয়ালখুশি থেকে কথা বলেন না; তা তো কেবল ওহী, যা তার প্রতি প্রেরণ করা হয়।
সুতরাং সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যাকারী, তার বিধানসমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানকারী। কুরআনকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে রাসূল মুহাম্মদ ﷺ-এর বাণী, কর্ম ও অনুমোদনের দিকে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে। সুন্নাহ ছাড়া দ্বীনকে পরিপূর্ণভাবে বোঝা সম্ভব নয়।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজকের যুগে নানা সন্দেহ-সংশয় ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু মানুষ সুন্নাহকে অস্বীকার করছে, আবার কেউ কেউ এর প্রামাণিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু আলেমদের নয়, বরং সাধারণ মুসলিমদেরও সচেতন হওয়া জরুরি।
এ প্রেক্ষাপটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুসরণ করা প্রয়োজন। যেমন-
প্রথমত, কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা থেকে সুন্নাহর প্রামাণিকতার দলিলসমূহ ভালোভাবে জানা।
দ্বিতীয়ত, হাদীস শাস্ত্রের মৌলিক নীতিমালা (উসূলুল হাদীস) অধ্যয়ন করা, যাতে সহীহ ও দুর্বল হাদীসের মধ্যে পার্থক্য করা যায়।
তৃতীয়ত, বর্তমান যুগে সুন্নাহবিরোধী যেসব সন্দেহ ও আপত্তি উত্থাপন করা হচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং এর বৈজ্ঞানিক ও দলিলভিত্তিক জবাব জানা।
চতুর্থত, এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত আলেমদের বক্তব্য ও গবেষণার ওপর নির্ভর করা।
মনে রাখতে হবে, এই বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা কেবল আবেগ দিয়ে সম্ভব নয়; বরং প্রয়োজন সুদৃঢ় জ্ঞান, স্পষ্ট প্রমাণ এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ উপস্থাপনা। একই সাথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে কোমলতা ও হিকমাহ অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমাদেরকে সত্যের উপর অবিচল রাখেন। আমাদেরকে তাঁর নবীর সুন্নাহর সহায়ক ও ধারক বানান, এবং বাতিলপন্থীদের ষড়যন্ত্র তাদের দিকেই ফিরিয়ে দেন। আমীন! বারাকাল্লাহু ফিকুম।