ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.) বলেন,
‘সৌভাগ্যবান সে ব্যক্তি, যে আল্লাহর কাছে নিজেকে বিনম্র করে এবং তাঁর কাছে নিরাপদ ও সুস্থতা কামনা করে। কারণ মানুষকে এমন পরিপূর্ণ স্বস্তি ও নিরাপত্তা কখনোই দেওয়া হয় না, যেখানে কোনো পরীক্ষা থাকবে না। জীবনে কোনো না কোনো বিপদ-পরীক্ষা আসবেই। তাই বুদ্ধিমান মানুষ সবসময় আল্লাহর কাছে আফিয়াত কামনা করতে থাকে, যাতে তার জীবনের অধিকাংশ সময় স্বস্তি ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কাটে এবং সামান্য কিছু পরীক্ষার সময় ধৈর্য ধারণ করা তার জন্য সহজ হয়।
সারকথা হলো, মানুষের উচিত বুঝে নেওয়া যে, দুনিয়ায় সে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো সম্পূর্ণ নির্ভেজালভাবে পাবে না। প্রতিটি পানীয়ের সঙ্গেই কোনো না কোনো তিক্ততা থাকে, প্রতিটি লোকমার সঙ্গেই কোনো না কোনো কাঁটা আটকে থাকে।
প্রকৃত অর্থে, ধৈর্য হলো মহান আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরের ওপর ধৈর্য ধারণ করা। আর মানুষের তাকদির খুব কমই তার নিজের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তাই বুদ্ধিমান সে-ই, যে প্রতিদানের আশ্বাস এবং বিপদকে সহজভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা দিয়ে নিজের নফসকে ধৈর্যের পথে পরিচালিত করে। সে চেষ্টা করে, যেন পরীক্ষার সময়টি অভিযোগে ডুবে না গিয়ে নিরাপদে পার হয়ে যায়। অতঃপর সে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং তাঁর কাছে আফিয়াত কামনা করে [সাইদুল খাতির, পৃ. ২৯৬]।
উপরোল্লিখিত আলোচনায় জীবনের একটি গভীর বাস্তবতা রয়েছে। দুনিয়াতে এমন কোনো জীবন নেই, যেখানে সবকিছু মানুষের ইচ্ছামতো হবে। কখনো প্রাপ্তির সঙ্গে অপ্রাপ্তি থাকবে, স্বস্তির সঙ্গে দুশ্চিন্তা থাকবে, আনন্দের সঙ্গে কষ্ট থাকবে। তাই মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত পরীক্ষামুক্ত জীবন নয়, বরং পরীক্ষার মধ্যেও আল্লাহর ওপর অটুট আস্থা রাখা।
আপনি জানেন না আগামী দিন আপনার জন্য কী নিয়ে আসবে। তাই বিপদ আসার পর শুধু ধৈর্য ধরার চেষ্টা নয়, বরং বিপদ আসার আগেই আল্লাহর কাছে আফিয়াত চাইতে থাকুন। কারণ সুস্থতা, নিরাপত্তা, ঈমানের স্থিরতা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের চেয়ে বড় নিয়ামত আর কী হতে পারে?
আল্লাহ আমাদের জীবনের অধিকাংশ সময় আফিয়াতের মধ্যে রাখুন এবং যখন কোনো পরীক্ষা আসে, তখন আমাদেরকে সুন্দর ধৈর্য, সন্তুষ্টি ও তাঁর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করার তাওফীক দান করুন। আমীন!










