মজলুমের দোয়া
রাসূলুল্লাহ ﷺ দীর্ঘ এক হাদীসে মু‘আয ইবনু জাবাল رضي الله عنه-কে যে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছিলেন, তার মধ্যে ছিল—
«وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ، فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللهِ حِجَابٌ»
মজলুমের দোয়া থেকে বেঁচে থাকো। কারণ তার দোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই।
মজলুমের আর্তনাদ পৃথিবীর মানুষের কানে পৌঁছাক বা না পৌঁছাক, আল্লাহর কাছে তা পৌঁছে যায়। তার কান্না মানুষ উপেক্ষা করতে পারে, তার অভিযোগ কেউ শুনতে নাও পারে, তার আহাজারি হয়তো কোনো আদালতের দরজা পর্যন্ত পৌঁছায় না; কিন্তু আল্লাহর দরবারে তার জন্য কোনো বাধা নেই।
আল্লাহ তাআলার ন্যায়বিচার এতই পরিপূর্ণ যে, কোনো মানুষ জুলুমের শিকার হলে তার অবস্থান, পরিচয় কিংবা মানুষের চোখে তার মর্যাদা যাই হোক না কেন, তার মজলুম হওয়াকে আল্লাহ উপেক্ষা করেন না। তাই জুলুম থেকে বেঁচে থাকা এবং মানুষের অধিকার নষ্ট না করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পৃথিবীর বিভিন্ন কারাগার ও বন্দিশালায় এমন অসংখ্য মানুষ রয়েছে, যারা হয়তো জুলুমের শিকার হয়ে নীরবে দিন কাটাচ্ছে। তাদের চোখের পানি হয়তো কেউ দেখছে না, তাদের কষ্টের খবর হয়তো সবাই জানে না। কিন্তু একজন মজলুম যখন নির্জনে হাত তুলে তার রবের কাছে ফরিয়াদ করে, তখন সে একা থাকে না; তার দোয়ার সামনে কোনো প্রহরী, কোনো দেয়াল কিংবা কোনো ক্ষমতার বাধা থাকে না।
কখনো কখনো জালিম ব্যক্তি তার জীবনে একের পর এক বিপদ আসতে দেখে, কিন্তু তার প্রকৃত কারণ বুঝতে পারে না। অথচ সে জানে না—কোনো অসহায় মানুষের অশ্রুসিক্ত দোয়া হয়তো আসমানের দিকে উঠে গেছে।
তবে দুনিয়ার কোনো শাস্তি বা বিপদই চূড়ান্ত বিচার নয়। চূড়ান্ত বিচার সেই দিন, যেদিন প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়ের মাপকাঠি; সেদিন কোনো ক্ষমতা কাজে আসবে না, কোনো পদমর্যাদা রক্ষা করবে না, কোনো সম্পদ দিয়ে সত্যকে কেনা যাবে না। থাকবে শুধু আমল এবং আল্লাহর ন্যায়বিচার।
তাই জুলুম থেকে বেঁচে থাকুন। কারও অধিকার নষ্ট করবেন না। কারও চোখের পানি আপনার কারণে ঝরাবেন না। কারণ মানুষের কাছ থেকে অনেক কিছু গোপন করা গেলেও আল্লাহর কাছ থেকে কিছুই গোপন করা যায় না।
হে আল্লাহ! পৃথিবীর সকল নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের প্রতি আপনার সাহায্য ও রহমত নাজিল করুন। যারা জুলুমের শিকার, তাদের কষ্ট দূর করুন, তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার ফিরিয়ে দিন। আর যারা জুলুম করে, তাদের জুলুম থেকে মানুষকে রক্ষা করুন এবং আপনার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করুন।
হে আমাদের রব! আপনি মজলুমদের সাহায্যকারী। তাদের জন্য আপনি যথেষ্ট হয়ে যান এবং আমাদেরও জালিম হওয়া ও জুলুমের সহযোগী হওয়া থেকে রক্ষা করুন। আমিন!







