আপনার ভবিষ্যৎ মহান আল্লাহর হাতে সোপর্দ করুন-
ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের চিন্তার শেষ নেই। আগামী দিন কেমন হবে, জীবনে কী ঘটবে, দীন-দুনিয়ার পথে কী অপেক্ষা করছে, কোন সিদ্ধান্তে কী পরিণতি হবে, এসব ভাবতে ভাবতে অনেক সময় বর্তমানটুকুও অস্থিরতায় কেটে যায়। অথচ একজন মুমিনের জন্য ভবিষ্যতের সর্বোত্তম প্রস্তুতি হলো নিজের বিষয়গুলো মহান আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা এবং তাঁর কাছে দীন, দুনিয়া ও আখিরাতের সামগ্রিক কল্যাণ প্রার্থনা করা।
শায়খ আব্দুর রহমান আস-সা‘দী (রহ.) বলেন, ভবিষ্যতের বিষয়গুলো বিবেচনা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপকারী বিষয়গুলোর একটি হলো রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো এই দুআটি বেশি বেশি পড়া-
اللهم أصلح لي ديني الذي هو عصمة أمري، وأصلح لي دنياي التي فيها معاشي، وأصلح لي آخرتي التي إليها معادي، واجعل الحياة زيادة لي في كل خير، والموت راحة لي من كل شر.
হে আল্লাহ! আমার দ্বীনকে সংশোধন করে দিন, যা আমার সমস্ত বিষয়ের রক্ষাকবচ। আমার দুনিয়াকে সংশোধন করে দিন, যেখানে আমার জীবিকা। আমার আখিরাতকে সংশোধন করে দিন, যার দিকে আমার প্রত্যাবর্তন। আর জীবনকে আমার জন্য প্রত্যেক কল্যাণ বৃদ্ধির মাধ্যম করে দিন এবং মৃত্যুকে আমার জন্য প্রত্যেক অকল্যাণ থেকে প্রশান্তির কারণ করে দিন। (সহিহ মুসলিম)।
কী অসাধারণ একটি দুআ! এখানে মানুষের জীবনের পুরো পরিধিই যেন মহান আল্লাহর কাছে তুলে ধরা হয়েছে। শুধু দীন নয়, শুধু দুনিয়া নয়, শুধু আখিরাতও নয়; বরং দীনকে সঠিক রাখা, দুনিয়ার জীবনকে কল্যাণময় করা এবং আখিরাতের পরিণতিকে সুন্দর করা, সবকিছুর জন্যই মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে।
শায়খ আস-সা‘দী (রহ.) আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আরেকটি দুআ হলো-
اللهم رحمتك أرجو فلا تكلني إلى نفسي طرفة عين، وأصلح لي شأني كله، لا إله إلا أنت.
হে আল্লাহ! আমি শুধু আপনার রহমতেরই প্রত্যাশা করি। অতএব এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না। আমার সমস্ত বিষয় সংশোধন করে দিন। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। (আবু দাউদ, সহীহ সনদে)।
মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাগুলোর একটি হলো সে নিজের শক্তি, বুদ্ধি ও পরিকল্পনার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে শুরু করে। অথচ মানুষ নিজের একটি মুহূর্তের ভবিষ্যৎও নিশ্চিতভাবে জানে না। কোন সিদ্ধান্ত তার জন্য কল্যাণকর, কোন পথ তাকে বিপদের দিকে নিয়ে যাবে, কোন সম্পর্ক তার জন্য রহমত হবে আর কোনটি পরীক্ষায় পরিণত হবে, সে সবকিছু জানে না।
তাই ‘হে আল্লাহ, আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না’ এই দুআর মধ্যে এক গভীর আত্মসমর্পণ রয়েছে। এর অর্থ নিজের চেষ্টা পরিত্যাগ করা নয়; বরং চেষ্টা করার পাশাপাশি নিজের দুর্বলতাকে স্বীকার করা এবং মহান আল্লাহর হিদায়াত, সাহায্য ও তাওফিকের ওপর নির্ভর করা।
শায়খ আস-সা‘দী (রহ.) বলেন, বান্দা যখন উপস্থিত হৃদয় ও আন্তরিক নিয়ত নিয়ে এসব দুআ বেশি বেশি পড়ে এবং একই সঙ্গে সেই কল্যাণ অর্জনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে, তখন মহান আল্লাহ তার প্রার্থনা, আশা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে তার জন্য কল্যাণের পথ খুলে দেন। এমনকি তার দুশ্চিন্তাও একসময় আনন্দ ও প্রশান্তিতে রূপান্তরিত হয়।
তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত অস্থির হবেন না। আপনার কাজ হলো সঠিক পথে চলা, সাধ্যমতো চেষ্টা করা, দুআ করা এবং মহান আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রাখা। আপনি জানেন না আগামীকাল কী নিয়ে আসবে, কিন্তু আল্লাহ জানেন। আপনি জানেন না কোন পথে আপনার কল্যাণ, কিন্তু তিনি জানেন। আপনি কেবল দরজায় কড়া নাড়ুন; দরজা কখন এবং কীভাবে খুলবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁর।
দ্বীন ঠিক থাকুক, দুনিয়া কল্যাণময় হোক, আখিরাত সুন্দর হোক, জীবন নেক আমলে সমৃদ্ধ হোক এবং মৃত্যু অকল্যাণ থেকে মুক্তির কারণ হোক, একজন মুমিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এর চেয়ে সুন্দর আর কী-ই বা চাওয়া হতে পারে!
তাই প্রতিদিন আপনার হৃদয় দিয়ে বলুন-
হে আল্লাহ, আমার দীন, দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত বিষয় আপনি সংশোধন করে দিন। আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না। আমীন!







