হাসান আল-বসরী (রহ.) বলেন-
চারটি গুণ যার মধ্যে থাকবে, আল্লাহ তাকে শয়তান থেকে রক্ষা করবেন এবং তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন। আর তা হলো—
আকাঙ্ক্ষা, ভয়, প্রবৃত্তির তাড়না এবং ক্রোধের সময় যে ব্যক্তি নিজেকে সংযত রাখতে পারে।
জামি‘উল উলূম ওয়াল হিকাম, ১/৩৬৮
এখানে মানুষের জীবনের চারটি অত্যন্ত শক্তিশালী মানসিক অবস্থার কথা বলা হয়েছে।
১. رغبة (আকাঙ্ক্ষা): কোনো কিছু পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা যখন মানুষকে সীমালঙ্ঘনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, তখন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা।
২. رهبة (ভয়): ভয়, বিপদ কিংবা ক্ষতির আশঙ্কায় সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত না হওয়া।
৩. شهوة (প্রবৃত্তির কামনা): নফসের আকর্ষণ ও ভোগের ইচ্ছা যখন মানুষকে হারাম বা অনুচিত কাজে আহ্বান করে, তখন নিজেকে সংযত রাখা।
৪. غضب (ক্রোধ): রাগের মুহূর্তে নিজের কথা, আচরণ ও সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ ক্রোধের সময় মানুষ এমন অনেক কথা ও কাজ করে বসে, যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়।
এই চারটি অবস্থাই মূলত মানুষের নফসের পরীক্ষার জায়গা। মানুষ যখন আকাঙ্ক্ষা, ভয়, কামনা ও ক্রোধের মুহূর্তে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ না করে আল্লাহর বিধানকে প্রাধান্য দিতে শেখে, তখন তার আত্মসংযম ও তাকওয়া প্রকাশ পায়।
সুতরাং আত্মসংযম শুধু নীরব থাকা বা কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং নিজের ভেতরের তাড়নাকে আল্লাহর আনুগত্যের অধীন করে দেওয়াই প্রকৃত আত্মসংযম।










