আখিরাতের নেয়ামত মানুষের কল্পনারও ঊর্ধ্বে
ইবনু হুবাইরা (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু: ৫৬০ হিজরি) বলেন:
যেহেতু দুনিয়া হলো সংকীর্ণতা ও দুঃখ-কষ্টের আবাস, আর আখিরাত হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের সম্মানিত করার স্থান এবং তাঁর সন্তুষ্টিপ্রাপ্তদের স্থায়ী আবাস, তাই আল্লাহ সেখানে তাঁদের জন্য এমন সব নেয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছেন, যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান কখনো শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়েও কখনো কল্পনার উদ্রেক করেনি।
আল্লাহ আখিরাতে তাঁর বান্দাদের জন্য যে দান ও পুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন, তার প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনার ঊর্ধ্বে রাখার একটি তাৎপর্য হলো, যেন তা মানুষের সীমিত উপলব্ধির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে না পড়ে। কারণ, মানুষের চোখের দৃষ্টিসীমা সংকীর্ণ, আর মানুষের মন ও মানসিকতা গড়ে উঠেছে সীমিত এক জগতে।
মানুষকে যখন এমন কোনো বিষয়ের সংবাদ দেওয়া হয়, যা তার বুদ্ধির সীমা কিংবা অনুভূতির পরিধিকে অতিক্রম করে, অথচ তা পরিমাপ করার মতো কোনো পরিচিত দৃষ্টান্ত তার কাছে নেই, যা সে নিজের দেখা, জানা ও অভ্যস্ত বিষয়গুলোর সঙ্গে তুলনা করতে পারে, তখন সে অনেক সময় দ্রুত তা নিয়ে সন্দেহে পড়ে যায় এবং সেই সংবাদকে অবিশ্বাস করতে শুরু করে।
এ কারণেই আমার মতে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন:
﴿فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍ﴾
কেউই জানে না, তাদের জন্য নয়নজুড়ানো কী কী নেয়ামত গোপন রাখা হয়েছে। (সূরা আস-সাজদাহ, ৩২:১৭)।
আমাদের জন্য শিক্ষণীয়-
দুনিয়ার জীবন যতই কষ্টকর হোক, মুমিনের সামনে আখিরাতের এক বিশাল প্রত্যাশা রয়েছে। জান্নাতের নেয়ামত আমাদের কল্পনা, অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির সীমা ছাড়িয়ে যাবে। আমরা দুনিয়ার পরিচিত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে জান্নাতের নেয়ামতের তুলনা করে তার প্রকৃত মহিমা উপলব্ধি করতে পারব না।
তাই দুনিয়ার সাময়িক কষ্টে হতাশ না হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। দুনিয়ার কোনো আনন্দই জান্নাতের আনন্দের সমতুল্য নয়, আর দুনিয়ার কোনো কষ্টই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের চিরস্থায়ী পুরস্কারের তুলনায় চূড়ান্ত নয়।
আপনি আজ যে কষ্ট সহ্য করছেন, তার বিনিময়ে আল্লাহ কী পুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন, তা আপনি জানেন না। কিন্তু আপনি যদি ঈমান ও নেক আমলের ওপর অবিচল থাকেন, তবে আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর আশা রাখতে পারেন।
আল্লাহ আমাদের জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন এবং তাঁর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন!