নারীদের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর গুরুত্বপূর্ণ নসীহত-
রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মতের কল্যাণের জন্য এমন অনেক নসীহত প্রদান করেছেন, যা মানুষের ঈমান, চরিত্র ও আমলকে সংশোধন করে। নারীদের প্রতিও তিনি বিশেষভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছেন, যাতে তারা নিজেদের দুর্বলতা সংশোধন করে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে অগ্রসর হতে পারে।
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
«اطَّلَعْتُ فِي الْجَنَّةِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا الْفُقَرَاءَ، وَاطَّلَعْتُ فِي النَّارِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ»
অর্থাৎ, আমি জান্নাতের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, জান্নাতের অধিকাংশ অধিবাসী হলো দরিদ্র মানুষ। আর আমি জাহান্নামের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তার অধিকাংশ অধিবাসী হলো নারী। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)।
এ হাদীস শুনে সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, এর কারণ কী? তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ নারীদের কিছু বিশেষ দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,
«تَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ وَتَكْفُرْنَ الْإِحْسَانَ»
অর্থাৎ, তোমরা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হও এবং তার উপকার অস্বীকার করো। (সহীহ বুখারী)।
এখানে “কুফরানুল আশীর” (كفران العشير) বলতে ঈমান থেকে বের হয়ে যাওয়া বোঝানো হয়নি; বরং স্বামীর ভালোবাসা, ত্যাগ ও উপকারের প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ উদাহরণ দিয়ে বলেছেন যে, কোনো স্বামী যদি দীর্ঘদিন তার স্ত্রীর প্রতি উত্তম আচরণ করে, এরপর কোনো একটি বিষয়ে তার মনঃপূত না হলে সে যেন না বলে, আমি তোমার কাছ থেকে কখনো কোনো ভালো কিছু পাইনি।
এ ধরনের অকৃতজ্ঞতা মানুষের নেক আমল ও পারিবারিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।
আরেক হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদের দিন নারীদের উদ্দেশ্যে নসীহত করে বলেন,
«يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ، تَصَدَّقْنَ، فَإِنِّي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ»
অর্থাৎ, হে নারীগণ! তোমরা সদকা করো। কারণ আমাকে দেখানো হয়েছে যে, তোমাদের মধ্যে অনেকেই জাহান্নামের অধিবাসী হবে। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)।
নারীরা জিজ্ঞাসা করলেন, এর কারণ কী? তিনি বললেন, তোমরা বেশি অভিশাপ দাও এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হও।
এখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উদ্দেশ্য নারীদের অপমান করা নয়; বরং তাদেরকে সতর্ক করা, যেন তারা নিজেদের কিছু স্বভাব সংশোধন করে আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারে।
নারীর সম্মান ও ইসলামের শিক্ষা-
ইসলাম নারীকে সম্মান দিয়েছে, তার অধিকার সংরক্ষণ করেছে এবং তাকে জান্নাতের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। একজন নারী তার ঈমান, সালাত, চরিত্র, স্বামীর প্রতি সদাচরণ, সন্তানদের উত্তম তারবিয়াহ এবং আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে মহান মর্যাদা লাভ করতে পারে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ নারীদের জন্য বিশেষভাবে সদকার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। কারণ সদকা মানুষের গুনাহ মোচনের অন্যতম মাধ্যম এবং আল্লাহর রহমত লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
তিনি বলেছেন, হে নারীগণ! তোমরা সদকা করো, যদিও তা তোমাদের অলংকার থেকে হয়। (সহীহ সূত্রে বর্ণিত)।
তাই প্রত্যেক মুসলিম নারীর উচিত—
– পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়া;
– আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বেঁচে থাকা;
– বেশি বেশি ইস্তিগফার ও যিকির করা;
– গীবত, অভিশাপ, কটু কথা ও অহংকার থেকে দূরে থাকা;
– স্বামী, পরিবার ও মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ ও সদয় হওয়া;
– সামর্থ্য অনুযায়ী সদকা করা;
– শিরক, কুসংস্কার, গণক-জ্যোতিষী ও তাবিজ-কবজের মতো হারাম বিষয় থেকে বেঁচে থাকা।
বিশেষ করে নারীদের মধ্যে প্রচলিত কিছু ভুল আকীদা ও আমল থেকে সতর্ক থাকা জরুরি। যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য বা বিপদমুক্তি চাওয়া, গণক ও জাদুকরের কাছে যাওয়া ইত্যাদি। এগুলো ঈমানের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সতর্কবাণী নারীদের মর্যাদা কমানোর জন্য নয়; বরং তাদেরকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করার জন্য এক গভীর মমতাপূর্ণ নির্দেশনা। একজন বুদ্ধিমতী মুমিনা এসব নসীহতকে নিজের সংশোধনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল নারী-পুরুষকে ঈমানের ওপর অটল রাখুন, আমাদের চরিত্র সুন্দর করুন, অকৃতজ্ঞতা ও সকল গুনাহ থেকে হেফাজত করুন এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন।
আমীন!
-আব্দুল হাকীম মাদানী
আল-ইলম ইন্সটিটিউট রাজশাহী।