রমাযানের শেষ প্রান্তে আত্মীয় ও প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া-
রমাযান মাসের শেষভাগে এসে অনেক পরিবারের ওপর হঠাৎ করেই আর্থিক চাপ বেড়ে যায়। মাসজুড়ে ইফতার ও সাহরির খরচ, পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয়, আর সামনে আসন্ন ঈদের প্রস্তুতি সব মিলিয়ে অনেকের জন্য সময়টা কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু সমাজের বাস্তবতা হলো, অনেক মানুষ তাদের অভাব প্রকাশ করতে পারে না। বাহ্যিকভাবে তাদেরকে স্বচ্ছল মনে হলেও অন্তরে তারা নীরবে প্রয়োজনের বোঝা বহন করে।
এ কারণে একজন সচেতন মুসলিমের দায়িত্ব হলো এই সময়টাতে নিজের আশপাশের মানুষের খোঁজ নেওয়া। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতদের দিকে একটু নজর দেওয়া। হয়তো তাদের মধ্যে কেউ আছেন, যিনি সম্মানের কারণে সাহায্যের কথা বলতে পারছেন না, কিন্তু অন্তরে তিনি সাহায্যের অপেক্ষায় আছেন।
ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, নিকটাত্মীয়দের প্রতি দান ও উপহার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অনেক সময় নিকট আত্মীয়কে দেওয়া একটি উপহার দূরের কাউকে দেওয়া সদাকার চেয়েও বেশি সওয়াবের কারণ হতে পারে। কারণ এতে একদিকে যেমন দান করা হয়, অন্যদিকে আত্মীয়তার বন্ধনও সুদৃঢ় হয়।
এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। উম্মুল মুমিনীন মাইমূনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) একবার তাঁর দাসীকে মুক্ত করে দেন। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে বলেন, তুমি যদি তাকে তোমার মামাদের (অর্থাৎ নিকট আত্মীয়দের)কে দিয়ে দিতে, তাহলে তোমার জন্য সওয়াব আরও বেশি হতো।
অন্য একটি ঘটনায় দেখা যায়, সাহাবী আবু তালহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর প্রিয় বাগান বাইরুহা আল্লাহর পথে সদকা করতে চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে প্রশংসা করে বললেন, বাহ! এটি তো লাভজনক সম্পদ, এটি তো সত্যিই লাভজনক সম্পদ। তবে আমার মত হলো তুমি এটিকে তোমার নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করো। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর এই নির্দেশনা পেয়ে আবু তালহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সেই বাগানটি তাঁর আত্মীয়স্বজন ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দেন।
এই ঘটনাগুলো আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়, ইসলামে দান-সদকার ক্ষেত্রেও আত্মীয়তার সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিকটজনের প্রয়োজন পূরণ করা কেবল দান নয়, বরং এটি সিলাতুর রাহিম বা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সুতরাং রমাযানের এই শেষ দিনগুলোতে আমাদের উচিত, নিজেদের চারপাশে একটু তাকানো। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা পরিচিতদের মধ্যে কেউ আর্থিক কষ্টে আছেন কি না, তা খোঁজ নেওয়া। সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানো।
হয়তো একটি ছোট উপহার, কিছু খাদ্যসামগ্রী, অথবা ঈদের আগে সামান্য সহায়তাই কারো পরিবারের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। আর আল্লাহর কাছে সেটিই হতে পারে আমাদের জন্য বড় সওয়াব ও নাজাতের কারণ।
রমাযানের শেষ প্রান্তে এসে তাই আমাদের স্মরণ রাখা উচিত, দান শুধু অর্থ দেওয়ার নাম নয়; বরং এটি মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং আত্মীয়তার বন্ধনকে জীবন্ত রাখার এক অনন্য উপায়। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হৌন। আমীন!
-আল-ইলম ইন্সটিটিউট, রাজশাহী-৬২০৩।