উত্তম চরিত্রের চারটি ভিত্তি-
শাইখ আবদুর রাজ্জাক আল-বদর (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন—
الأخلاق تقوم على أربعة أركان:
উত্তম চরিত্র চারটি মূল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। যথা-
১. জিহ্বার হেফাজত (صيانة اللّسان)-
মানুষের চরিত্রের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার কথাবার্তায় প্রকাশ পায়। একজন মুমিন তার জিহ্বাকে মিথ্যা, গীবত, অপবাদ, কটুবাক্য, অশ্লীলতা ও অনর্থক কথা থেকে সংরক্ষণ করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)। একটি সুন্দর কথা মানুষের হৃদয় জয় করতে পারে, আবার একটি অসতর্ক কথা সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে। তাই জিহ্বার নিয়ন্ত্রণ উত্তম চরিত্রের প্রথম চিহ্ন।
২. অনর্থক বিষয় থেকে দূরে থাকা (البعد عن الفضول وما لا يعني)-
উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি এমন বিষয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখে না, যা তার জন্য উপকারী নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ
কোনো ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্যের অংশ হলো যে বিষয় তার জন্য প্রয়োজনীয় নয়, তা পরিত্যাগ করা।
(তিরমিযি)। অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় অনুসন্ধান করা, অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়ানো এবং সময় নষ্ট করা একজন মানুষের মর্যাদা কমিয়ে দেয়।
৩. আবেগের পেছনে ভেসে না যাওয়া (عدم الانسياق مع الانفعالات)-
রাগ, আবেগ ও উত্তেজনার সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রকৃত শক্তির পরিচয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ
শক্তিশালী সে নয় যে অন্যকে পরাজিত করতে পারে; বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)। একজন পরিণত মানুষ মুহূর্তের আবেগে এমন কথা বা কাজ করে না, যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়।
৪. অন্তরের পবিত্রতা (سلامة الصدر)-
উত্তম চরিত্রের সবচেয়ে সুন্দর বৈশিষ্ট্য হলো অন্তরকে হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার ও কু-ধারণা থেকে মুক্ত রাখা।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا
হে আমাদের রব! যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রেখো না। (সূরা আল-হাশর: ১০)। পরিষ্কার অন্তরের মানুষ অন্যের ভালোতে আনন্দিত হয়, ক্ষমা করতে শেখে এবং মানুষের জন্য কল্যাণ কামনা করে।
উত্তম চরিত্র শুধু সুন্দর আচরণের নাম নয়; এটি একজন মানুষের ভেতরের পরিশুদ্ধতার প্রকাশ। যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করে, অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে দূরে থাকে, আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, এবং অন্তরকে পরিষ্কার রাখে, সে-ই প্রকৃত অর্থে উত্তম আখলাকের অধিকারী। কারণ মানুষের মর্যাদা তার সম্পদ, পরিচয় বা বাহ্যিক সৌন্দর্যে নয়; বরং তার চরিত্র, বিনয় ও অন্তরের পবিত্রতায়।
তথ্যসূত্র:
مختصر من أحاديث الأخلاق —
শাইখ আবদুর রাজ্জাক আল-বদর (হাফিযাহুল্লাহ), পৃষ্ঠা: ১৬-১৯