তাওয়াক্কুল দ্বীনের অর্ধেক, আর বাকি অর্ধেক হলো ইবাদত। কারণ, দ্বীন মূলত দুটি বিষয়ের সমন্বয়: আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা এবং তাঁর ইবাদত করা। তাওয়াক্কুল হলো আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা, আর ইনাবাত হলো তাঁর ইবাদতে ফিরে আসা এবং তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ হওয়া।
তাওয়াক্কুলের মর্যাদা ও পরিসর অত্যন্ত ব্যাপক। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিস্তৃতি, সৃষ্টিজগতের মানুষের অসংখ্য প্রয়োজন এবং তাওয়াক্কুলের সর্বজনীনতার কারণে এই মর্যাদা কখনো শূন্য থাকে না। মুমিন ও কাফির, নেককার ও পাপাচারী, পাখি, বন্য প্রাণী ও গৃহপালিত পশু, সবাই কোনো না কোনোভাবে তাওয়াক্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আসমান ও জমিনের অধিবাসী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষ হোক কিংবা অন্য সৃষ্টি, প্রত্যেকেই নিজ নিজ প্রয়োজন ও উদ্দেশ্য অনুসারে তাওয়াক্কুলের অবস্থানে রয়েছে। যদিও তাদের তাওয়াক্কুলের বিষয় ও উদ্দেশ্য এক নয়।
আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও তাঁর বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করেন, যেন তিনি তাদের এমন কাজ করার তাওফিক দেন, যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন এবং পৃথিবীতে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই তাঁরা ঈমানের ওপর অবিচল থাকা, তাঁর দ্বীনের সাহায্য করা, তাঁর কালিমাকে সমুন্নত করা, শত্রুদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা, তাঁর পছন্দনীয় কাজ সম্পাদন করা এবং তাঁর আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপরই নির্ভর করেন।
সূত্র: ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.), মাদারিজুস সালিকীন, ২/২৮৩।