ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন-
لولا مَصائِبُ الدُّنيا لَوَرَدْنا يَومَ القِيامَةِ مَفَالِيسَ
দুনিয়ার বিপদ-মুসিবতগুলো যদি না থাকত, তাহলে আমরা কিয়ামতের দিন নিঃস্ব অবস্থায় উপস্থিত হতাম।
দুনিয়ার কষ্ট, দুঃখ, অসুস্থতা, বিচ্ছেদ, ক্ষতি ও নানা বিপদকে আমরা সাধারণত জীবনের দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখি। অথচ একজন মুমিনের দৃষ্টিতে এসব পরীক্ষার ভেতরেও আল্লাহর অসংখ্য হিকমত ও কল্যাণ লুকিয়ে থাকতে পারে।
কখনো একটি বিপদ মানুষকে এমনভাবে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়, যেভাবে শত উপদেশও তাকে ফিরিয়ে আনতে পারে না। কোনো কষ্ট তার অহংকার ভেঙে দেয়, কোনো ক্ষতি তাকে দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্ত করে, কোনো অসুস্থতা তাকে নিজের দুর্বলতা উপলব্ধি করায়, আর কোনো বিচ্ছেদ তাকে আখিরাতের স্থায়ী জীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
দুনিয়ার বিপদ যদি না থাকত, মানুষ হয়তো দুনিয়াতেই এত বেশি ডুবে যেত যে, আল্লাহর দিকে ফিরে আসার প্রয়োজন অনুভব করত না। তাই মুমিনের জীবনে কিছু কষ্ট কখনো কখনো নিছক শাস্তি নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, গুনাহ মোচন, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হতে পারে।
তাই প্রতিটি বিপদের সময় শুধু এই প্রশ্ন করবেন না, “কেন আমার সঙ্গে এমন হলো?” বরং এটাও ভাবুন, “এই ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে কী শেখাতে চাইছেন?”
হয়তো যে কষ্টটিকে আপনি আজ আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি মনে করছেন, সেটিই একদিন আপনার আখিরাতের সবচেয়ে বড় লাভের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
দুনিয়ার কিছু ক্ষতি যদি আপনাকে আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে দেয়, তবে সেই ক্ষতি প্রকৃত অর্থে ক্ষতি নয়।