সুন্নাহর আলোকে গুনাহ মাফের কিছু আমল-
ইসলামের সৌন্দর্য হলো আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য তওবা, ইবাদত ও নেক আমলের মাধ্যমে গুনাহ মোচনের অসংখ্য পথ রেখেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন হাদীসে এমন কিছু আমল শিক্ষা দিয়েছেন, যেগুলোর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারে এবং নিজের পাপ থেকে মুক্তির আশা করতে পারে।
নিচে সুন্নাহ থেকে বর্ণিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ গুনাহ মোচনকারী আমল তুলে ধরা হলো—
১. প্রতিদিন ১০০ বার তাসবিহ পাঠ করা-
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ، حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ
(সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)।
অর্থ: যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার বলে—
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
(আল্লাহ পবিত্র, তাঁরই প্রশংসা), তার গুনাহসমূহ মুছে দেওয়া হয়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো বেশি হয়।
২. বেশি বেশি ইস্তিগফার করা-
দোয়া—
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
অর্থ: আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক ও রক্ষক। আমি তাঁর কাছেই তওবা করছি।
এটি তিনবার পাঠ করা তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার উত্তম আমল।
৩. খাবারের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা-
খাওয়ার পর পড়া—
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এই খাবার খাওয়ালেন এবং আমার কোনো শক্তি ও সামর্থ্য ছাড়াই আমাকে এটি রিজিক হিসেবে দান করেছেন।
এটি আল্লাহর নিয়ামতের স্বীকৃতি এবং কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।
৪. আজানের পর ঈমানের ঘোষণা নবায়ন করা-
যখন মুয়াজ্জিন বলেন—
أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ
তখন বলা—
رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ ﷺ نَبِيًّا
অর্থ: আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ ﷺ-কে নবী হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছি।
সুন্নাহর আলোকে গুনাহ মাফের আরও কিছু আমল-
১. প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাসবীহ পাঠ করা-
রাসূলুল্লাহ ﷺ নির্দেশ দিয়েছেন—
৩৩ বার—
سُبْحَانَ اللهِ
الْحَمْدُ لِلَّهِ
اللهُ أَكْبَرُ
পাঠ করার পর বলা—
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
২. সালাত, হজ ও উমরা-
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّةُ
(সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)।
অর্থ: এক উমরা থেকে পরবর্তী উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা হয় এবং কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।
৩. উত্তমভাবে অজু করে মসজিদের দিকে যাওয়া-
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ … خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِهِ
(সহীহ মুসলিম)।
অর্থ: যখন কোনো মুসলিম বান্দা উত্তমভাবে অজু করে, তার গুনাহসমূহ তার শরীর থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি তার নখের নিচ থেকেও।
৪. আশুরার রোজা ও আরাফার রোজা-
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
আরাফার রোজা সম্পর্কে:
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ
(সহীহ مسلم)।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার রোজা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।
আশুরার রোজা সম্পর্কেও এসেছে—
صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ
(সহীহ مسلم)।
অর্থ: আশুরার রোজার মাধ্যমে আল্লাহ পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করবেন, এমন আশা করি।
মুমিনের জীবন হলো তওবা, ইবাদত ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার জীবন। ছোট ছোট নেক আমলকে কখনো তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়। কারণ আল্লাহর কাছে কোনো ভালো কাজই অমূল্য নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ
(সহীহ বুখারী ও মুসলিম)।
তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো, যদিও অর্ধেক খেজুর দান করার মাধ্যমে হয়।
তাই প্রতিদিনের জীবনে এসব আমলকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বেশি বেশি নেক আমল করার এবং তাঁর ক্ষমা ও রহমত লাভ করার তাওফীক দান করুন। আমীন!