ইলম ও তারবিয়াহ: একে অপরের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন
যে ইলম তারবিয়াহ (আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র গঠন) থেকে বিচ্ছিন্ন, তার ক্ষতি উপকারের চেয়ে অনেক বেশি
ইতিপূর্বে মুসলিমরা তাদের মর্যাদা ও শক্তিতে বড় আঘাত পেয়েছে তখনই, যখন তারবিয়াহ সলিহাহ ইসলামিয়্যাহ জ্ঞান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা কেবল ইলম অর্জন করেছে, কিন্তু সেই ইলম তাদের চরিত্রে, আচরণে ও জীবনে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে সেই ইলম তাদের নিজেদের জন্যও কষ্টের কারণ হয়েছে এবং তারা তাদের সমাজকেও কষ্টে নিপতিত করেছে।
প্রকৃত সুখ ও সফলতা এমন একটি লক্ষ্য, যেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয় শুধুমাত্র ইলম অর্জনের মাধ্যমে; যদি না তার সাথে সৎ তারবিয়াহ, নৈতিক শুদ্ধতা ও আত্মগঠন যুক্ত থাকে।
নবুওয়াতের মহান দায়িত্বই ছিল এই দুই বিষয়কে একত্র করা। আল্লাহ তাআলা কুরআনে এ দায়িত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন-
وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُم مَّا لَمْ تَكُونُواْ تَعْلَمُونَ
-তিনি তোমাদের পরিশুদ্ধ করেন, তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেন, এবং তোমাদেরকে এমন কিছু শিক্ষা দেন যা তোমরা আগে জানতে না।
এই আয়াতে প্রথমেই তাযকিয়াহ (আত্মশুদ্ধি) উল্লেখ করা হয়েছে, এরপর তালীম (শিক্ষা)। এতে বোঝা যায় শিক্ষার প্রকৃত ফল তখনই প্রকাশ পায়, যখন তা চরিত্র ও অন্তরের পরিশুদ্ধতার সাথে যুক্ত হয়।
অতএব, আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো ইলম ও তারবিয়াহকে একসাথে ধারণ করা। শুধু ইলম অর্জন নয়, বরং সেই ইলমকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা, চরিত্রে রূপান্তর করা এবং সমাজে কল্যাণ ছড়িয়ে দেওয়াই প্রকৃত উদ্দেশ্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এমন ইলম দান করুন, যা উপকারী, এবং এমন তারবিয়াহ দান করুন, যা আমাদেরকে তাঁর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়। আমীন!