মুমিন নারীদের প্রতি একটি আন্তরিক উপদেশ-
হে মুমিন নারীগণ, আমার সম্মানিত বোনেরা!
আজকের যুগে আল্লাহ আপনাদের ওপর একটি বড় নিয়ামত দান করেছেন। উপকারী ও বিশ্বস্ত আলেমদের দ্বীনি দরস, আলোচনা ও শিক্ষাগুলো এখন সরাসরি আপনাদের ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। আগে যে ইলম অর্জনের জন্য অনেক কষ্ট করতে হতো, এখন আল্লাহর অনুগ্রহে তা ঘরে বসেই শোনা ও শেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তাই আমার উপদেশ হলো আপনারা এই দরসগুলোর জন্য একটি নিয়মিত সময়সূচি তৈরি করুন। প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময় রাখুন, যাতে উপকারী আলেমদের আলোচনা শুনতে পারেন এবং ধীরে ধীরে নিজের দ্বীনি জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পারেন।
আপনাদের মধ্যে কেউ যদি অবসর নিয়ে দরসে বসতে পারেন, সামনে কিতাব রাখতে পারেন, গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা লিখে রাখতে পারেন তাহলে এটি খুবই উত্তম। এতে ইলম বেশি মজবুত হয়, মনোযোগ বাড়ে এবং শেখা বিষয়গুলো দীর্ঘদিন মনে থাকে।
আর যদি কেউ ঘরের কাজের কারণে আলাদা করে বসতে না পারেন, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। রান্না করতে করতে, বাসন ধুতে ধুতে বা ঘরের অন্যান্য কাজ করতে করতেও দরস শুনতে পারেন। তবে শর্ত হলো হৃদয়কে উপস্থিত রাখতে হবে, মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং শোনা কথাগুলো নিজের জীবনে গ্রহণ করার চেষ্টা করতে হবে।
হে সম্মানিত বোন! আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ হলো ঘরের অন্য সদস্যদেরও দরস শোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলুন। সন্তান, স্বামী, ভাই-বোন ও পরিবারের সদস্যদের ধীরে ধীরে উপকারী ইলমের সঙ্গে যুক্ত করুন। কারণ একটি ঘরে যখন কুরআন, সুন্নাহ, ইলম ও নসীহতের আলো প্রবেশ করে, তখন সেই ঘরে বরকত আসে, অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং পরিবার ধীরে ধীরে কল্যাণের পথে গড়ে ওঠে।
আল্লাহর কসম, এর ফল ও বরকত আপনার নিজের জীবনেও প্রকাশ পাবে, আপনার পরিবারের মধ্যেও প্রকাশ পাবে এবং আপনার ঘরেও এর প্রভাব দেখা যাবে। ইলম এমন এক আলো, যা মানুষের চিন্তা, চরিত্র, আচরণ ও জীবনকে বদলে দেয়।
তাই সময়কে নষ্ট হতে দেবেন না। মোবাইল, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম বানিয়ে রাখবেন না; বরং এগুলোকে ইলম অর্জন, ঈমান বৃদ্ধি ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যম বানান।
মনে রাখবেন, আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা-ই উত্তম এবং স্থায়ী। দুনিয়ার ব্যস্ততা শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহর জন্য শেখা ইলম, করা আমল এবং পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া নসীহতের বরকত রয়ে যাবে।
— ফযীলাতুশ শাইখ সুলাইমান আর-রুহাইলী (حفظه الله)-এর উপদেশ অবলম্বনে।