আমি এক ভদ্র ও সম্মানিত মানুষকে চিনতাম। হঠাৎ কোথাও দেখা হয়ে গেলে তিনি উষ্ণভাবে হাত বাড়িয়ে দিতেন, আন্তরিক অভ্যর্থনা জানাতেন, ভালোবাসা ভরা কণ্ঠে আমার খোঁজখবর নিতেন। তাঁর সেই মমতাময় আচরণে মাঝে মাঝে আমার মনে হতো হয়তো তিনি আমাকে গভীরভাবে অনেক আগে থেকেই চেনেন। কিন্তু পরে দেখলাম, তিনি যাকে-ই পান, এমনকি যাকে আগে কখনো দেখেননি, তাকেও একই উষ্ণতা, একই আন্তরিকতা আর সুন্দর ব্যবহার দিয়ে গ্রহণ করেন। তখনই বুঝলাম তিনি তাদের মধ্যে একজন, যাদেরকে মহান আল্লাহ জন্মগতভাবেই সুন্দর চরিত্র ও হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডল দান করেছেন।
তবে আমি এমন কিছু আলেমকেও দেখেছি, যারা মানুষের সাথে সৌজন্যপূর্ণ হতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তাঁরা হাসিমুখ দেখাতে গিয়েই ভেতরে ভেতরে কষ্ট পান, এমনকি তাঁদের চেহারায় ফুটে ওঠে সেই অস্বস্তি। মনে হয়, তাঁরা যেন জোর করে নিজেদের উপর হাসি চাপিয়ে দিচ্ছেন। হয়তো এঁরা সেই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত, যাদের ব্যাপারে হাদীসে এসেছে-
‘যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে এবং কষ্টসহকারে তা মুখে আনে, তার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে।’
এমন মানুষদের অধিকাংশই মানুষের ভিড় থেকে দূরে থাকতে স্বস্তি বোধ করেন।
আমার মনে পড়ে, বহু বছর আগে আমি যখন শায়খ ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে পড়েছিলাম, তখন যে গুণটি সবচেয়ে গভীরভাবে হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল, তা হলো তাঁর হাসিমুখ, সৌজন্য ও মানুষের প্রতি অপার মমতা। অসংখ্য মানুষ তাঁর কাছে যেত নানারকম স্বভাব, দুর্বলতা, ভুলভ্রান্তি নিয়ে। কিন্তু তিনি সবার প্রতি একই উন্মুক্ত হৃদয়ে ব্যবহার করতেন, কাউকে অবহেলা করতেন না। আমার কাছে এটি যেন ছিল এক প্রকার অলৌকিক গুণ, অন্তত আমার মতো মানুষের দৃষ্টিতে!
-আব্দুল্লাহ উহায়বী। আরবী থেকে অনূদিত।