*নিজের জন্য নিজেই রুকইয়াহ করুন-*
দুঃখজনকভাবে অনেক মানুষ মনে করেন, রুকইয়াহ (الرُّقْيَة) অবশ্যই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বিশেষ আলেম কিংবা বিশেষ পরিচিত কোনো রাকীর মাধ্যমেই হতে হবে। ফলে তারা নিজেরাই নিজের জন্য রুকইয়াহ করার গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ ও উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হন।
অথচ মানুষের নিজের জন্য করা রুকইয়াহ অনেক সময় সবচেয়ে উপকারী ও প্রভাবশালী হয়ে থাকে। কারণ একজন মানুষ যখন নিজের অসুস্থতা, কষ্ট, ভয় কিংবা দুর্বলতা নিয়ে সরাসরি আল্লাহর দিকে ফিরে যায়, তখন তার অন্তরে যে অসহায়ত্ব, আকুলতা ও সত্যনিষ্ঠ আশ্রয়প্রার্থনা সৃষ্টি হয়, তা অন্য কেউ তার জন্য রুকইয়াহ করার সময় সবসময় একই মাত্রায় উপস্থিত থাকে না।
নিজের জন্য রুকইয়াহ করার সময় মানুষ অন্তর থেকে উপলব্ধি করে মহান আল্লাহ ছাড়া তার প্রকৃত আশ্রয়দাতা, আরোগ্যদাতা ও রক্ষাকারী কেউ নেই। এই অনুভূতিই দো‘আকে গভীর করে, তাওয়াক্কুল (التوكل)-কে শক্তিশালী করে এবং অন্তরকে আল্লাহর সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করে।
অন্যের মাধ্যমে রুকইয়াহ করানো বৈধ। তবে তা এমন বিশ্বাসে পরিণত হওয়া উচিত নয় যে, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির হাতেই আরোগ্যের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। প্রকৃত শিফা (الشفاء) একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। রাকী কেবল কুরআন, দো‘আ ও বৈধ মাধ্যম ব্যবহার করেন; কিন্তু আরোগ্য দান করেন আল্লাহ তা‘আলা।
তাই প্রশ্ন হলো, আপনাকে নিজের জন্য নিজেই রুকইয়াহ করতে বাধা দিচ্ছে কী?
আপনি সূরা আল-ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা আল-ইখলাস, আল-ফালাক ও আন-নাস পাঠ করতে পারেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে প্রমাণিত দো‘আগুলো পড়ে নিজের শরীরে ফুঁ দিতে পারেন এবং পূর্ণ বিশ্বাস ও বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে আরোগ্য চাইতে পারেন।
তবে রুকইয়াহকে কখনো চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা থাকলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে; পাশাপাশি শারঈ রুকইয়াহ (الرُّقْيَة الشرعية), দো‘আ ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতা বজায় রাখতে হবে। বৈধ চিকিৎসা গ্রহণ করাও তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়; বরং সেটিও শরীয়তসম্মত উপায় অবলম্বনের অংশ।
অতএব, অন্ধভাবে মানুষের ওপর নির্ভর না করে নিজের রবের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তুলুন। অসহায় হৃদয়ে তাঁকে ডাকুন, তাঁর কালাম পাঠ করুন এবং দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন রোগ যত কঠিনই হোক, আরোগ্যদাতা একমাত্র তিনিই।
নিজের জন্য নিজেই রুকইয়াহ করুন; কারণ আপনার কষ্ট আপনি যেমন অনুভব করেন, তেমনি আন্তরিক আকুতি নিয়ে আপনার হয়ে অন্য কেউ সবসময় আল্লাহকে ডাকতে পারে না।
— ফযীলাতুশ শাইখ ড. সালিহ আস-সিন্দী হাফিযাহুল্লাহর আলোচনা থেকে বাংলায় আব্দুল হাকীম মাদানী (শারহু কিতাবিত তাওহীদ, পৃষ্ঠা ২৫৫)।