পড়াশোনা ও ইলম অর্জনের মূলভিত্তি-
পড়াশোনা একটি অনিন্দ্য সুন্দর শিল্প এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য সবচেয়ে কার্যকর একটি মাধ্যম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক শিক্ষিত মানুষও এর সঠিক ভিত্তি ও নীতিমালা উপেক্ষা করেন। ফলে পড়াশোনা অনেক সময় ফলপ্রসূ হয় না, বরং দুর্বল জ্ঞান ও অগভীর বোধ তৈরি করে। এজন্য প্রয়োজন পড়াশোনাকে সঠিক ভিত্তির উপর দাঁড় করানো।
প্রথম ভিত্তি-
ইলম অর্জনে শিক্ষক ও মৌলিক ভিত্তির গুরুত্ব: কোনো বই গভীরভাবে বোঝা এবং লেখকের উদ্দেশ্য অনুধাবন করা নির্ভর করে পাঠকের নিজের ইলমী ভিত্তির উপর। এই ভিত্তি মূলত তৈরি হয় আলেমদের কাছে সরাসরি শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে। ইমাম শাতিবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইলম অর্জনের দুটি পথ রয়েছে। যথা-
প্রথমত: সরাসরি উস্তায বা শিক্ষকের কাছ থেকে শেখা (মুশাফাহা)। এটি সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী পদ্ধতি।
দ্বিতীয়ত: বই পড়ে শেখা। এটিও উপকারী, তবে দুটি শর্তে। যথা-
১. পাঠকের সেই বিষয়ের মৌলিক ধারণা থাকতে হবে এবং পরিভাষা বুঝতে হবে।
২. প্রাচীন আলেমদের (সালাফদের) বই নির্বাচন করতে হবে।
অতএব, শুধু বই পড়ে ইলম অর্জন পূর্ণতা পায় না, বরং আলেমদের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী ভুল চিন্তা ও বিভ্রান্তিকর ধারণা থেকে নিরাপদ থাকতে পারে।
দ্বিতীয় ভিত্তি-
সালাফদের অগ্রাধিকার দেওয়া: প্রথম যুগের আলেমরা বিশেষত সাহাবী, তাবেঈন ও তাদের অনুসারীরা ইলমে অধিক গভীর ও দৃঢ় ছিলেন। এটি অভিজ্ঞতা ও শরীয়তী প্রমাণ উভয় দিক থেকেই প্রতিষ্ঠিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ, তারপর তাদের পরবর্তী যুগ, তারপর তাদের পরবর্তী যুগ। এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, প্রথম যুগের মানুষের জ্ঞান ও উপলব্ধি পরবর্তী যুগের তুলনায় অধিক বিশুদ্ধ। তাই পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রাচীন আলেমদের বইকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অধিক কথার মোহে পড়ে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। কারণ, জ্ঞান শুধু বেশি লেখা বা বেশি বিতর্কে নয়; বরং তা একটি নূর, যা আল্লাহ অন্তরে দান করেন, যার মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যা পার্থক্য করা যায়।
তৃতীয় ভিত্তি-
জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্য হলো আমলে বাস্তবায়ন: বই পড়া ও জ্ঞান অর্জনের মূল উদ্দেশ্য হলো সঠিকভাবে আমল করা। কেবল পড়াশোনা করে যাওয়া, কিন্তু সেই অনুযায়ী আমল না করা এটি বড় ক্ষতির কারণ। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, কোনো আমলই বিশুদ্ধ হয় না, যদি তা ইলম ও ফিক্বহের উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়। আর সত্যিকারের উপকারী জ্ঞান হলো, যে জ্ঞান মানুষকে আমলের দিকে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করেও তা অনুযায়ী আমল করে না, সে দুনিয়ার সুখ থেকেও বঞ্চিত হয় এবং আখিরাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কাজেই সঠিকভাবে পড়াশোনা করতে হলে তিনটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। যথাক্রমে-
১. আলেমদের কাছ থেকে ইলমী ভিত্তি অর্জন।
২. সালাফদের ইলমকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
৩. জ্ঞানকে আমলের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা।
আর এভাবেই পড়াশোনা একটি ফলপ্রসূ ইবাদতে পরিণত হয়, যা মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার পথে পরিচালিত করে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমাদেরকে উপকারী ইলম দান করেন। আমীন!
اللهم لا علمَ لنا إلا ما علَّمتَنا، إنك أنت العليم الحكيم.
اللهم علِّمنا ما ينفعنا، وانفعنا بما علَّمتَنا، وزدنا علماً.
اللهم لا سهل إلا ما جعلتَه سهلاً، وأنت تجعلُ الحَزْنَ إذا شئتَ سهلاً، فيسِّر لنا أمورَنا، واختم لنا بالسعادة، إنك على كل شيء قدير.
৭ এপ্রিল,২৬; রাজশাহী থেকে ঢাকা যাত্রাপথে
আব্দুল হাকীম মাদানী
আল-ইলম ইন্সটিটিউট রাজশাহী।

![সালাতে অন্তরের উপস্থিতির [মনোযোগ] গুরুত্ব](https://alilmbd.com/wp-content/uploads/2026/10/ইলমের-দুই-স্তম্ভ_-মুখস্থ-محفوظ-ও-অনুধাবন-مفهوم-350x250.jpg)
![সালাতে অন্তরের উপস্থিতির [মনোযোগ] গুরুত্ব](https://alilmbd.com/wp-content/uploads/2026/10/ইলমুন-নাহু-তাফসীর-এবং-কুরআন-তিলাওয়াত-350x250.jpg)
![সালাতে অন্তরের উপস্থিতির [মনোযোগ] গুরুত্ব](https://alilmbd.com/wp-content/uploads/2026/10/ইলম-ও-তারবিয়াহ_-একে-অপরের-অবিচ্ছেদ্য-বন্ধন-350x250.jpg)
![সালাতে অন্তরের উপস্থিতির [মনোযোগ] গুরুত্ব](https://alilmbd.com/wp-content/uploads/2026/10/নববী-হেদায়েতে-আধুনিক-শিক্ষণ-পদ্ধতির-শিকড়-350x250.jpg)
![সালাতে অন্তরের উপস্থিতির [মনোযোগ] গুরুত্ব](https://alilmbd.com/wp-content/uploads/2026/10/আলেম-ওলামাদের-সান্নিধ্যে-থাকাও-এক-ধরনের-গনীমত-350x250.jpg)







