বিদ’আতীদের ব্যাপারে মহামতি চার ইমামের বক্তব্য:
যদি কেউ কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে না ধরে তবে সে প্রবৃত্তি ও বিকৃতির দিকে ধাবিত হয়। অতঃপর সে স্বীয় মস্তিষ্ক প্রসুত সিদ্ধান্তকে কল্যাণকর মনে করে উদ্ভট কর্মকান্ডে লিপ্ত হয় এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। এক পর্যায়ে সে উক্ত কাজে অনুরাগী হয়ে তা কৌশলে ধর্মের নামে চালিয়ে দেয়। এভাবে শুরু হয়ে চলতে থাকে নতুন বিদ’আত। এমন ব্যক্তি ও তার অনুসারী থেকে সালাফগণ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলেছেন।
-ইমাম আবু হানীফা (৮০-১৫০) রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
عليك بالأثر وطريقة السلف وإياك وكل محدثة فإنها بدعة.
-অর্থাৎ, তুমি সুন্নাহ ও সালাফদের পথ আঁকড়ে ধর। তুমি প্রত্যেক নতুন ইবাদত থেকে বেঁচে থাক। কেননা তা বিদ’আত [ইবনু কুদামা মাকদিসী ফী যাম্মিত তা’ভীল, মাজাল্লাতুল হিকমাহ, ১১/১৫৯]।
-ইমাম মালেক (৯৩-১৭৯) রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
من ابتدع في الاسلام بدعة يراها حسنة فقد زعم أن محمدا صلى الله عليه وسلم خان الرسالة.
-অর্থাৎ, যে ব্যক্তি দ্বীন ইসলামে কোন ভালো কাজ মনে করে একটি বিদ’আত চালু করল তাহলে সে যেন ধারণা করে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রিসালাতের দায়িত্বে খিয়ানত করেছেন [আল ই’তিসাম, ১/২৮]।
-ইমাম শাফেঈ (১৫০-২০৪) রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
حكمي في أهل الكلام أن يضربوا بالجريد والنعال ويطاف بهم في القبائل يقال هذا جزاء من ترك الكتاب والسنة واقبل على الكلام.
-অর্থাৎ, প্রবৃত্তির অনুসারী (যারা আল্লাহর সিফাত নিয়ে মনগড়া কথা বলে) তথা বিদ’আতী লোকদের ব্যাপারে আমার মতামত হলো, তাদেরকে জুতা এবং খেজুরের ডাল দিয়ে প্রহার করা হোক এবং গ্রামে গ্রামে ঘুরে জনতার সামনে প্রকাশ করা হোক। এটা হলো কুরআন ও হাদীস ছেড়ে দিয়ে মনগড়া কথা বলার শাস্তি [সিয়ারু আলামীন নুবালা, ১০/১৮]।
-একবার ইমাম আহমদ বিন হাম্বাল (১৬৪-২৪১) রাহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হল,
الرجل يصوم ويصلى (التطوع) ويعتكف أحب إليك أو يتكلم في أهل البدع؟ قال: إذا قام وصلى واعتكف فإنما هو لنفسه واذا تكلم في أهل البدع فإنما هو المسلمين هذا افضل.(طبقات الحنابلة)
-অর্থাৎ, একজন লোক ছালাত (নফল) আদায় করে, ছিয়াম পালন করে, ই’তিকাফ করে তার এই আমলগুলো আপনার কাছে অতি উত্তম? নাকি ঐ ব্যক্তি বিদ’ আতীদের বিরুদ্ধে মানুষকে সতর্ক করার জন্য কথা বলে এটা উত্তম? উত্তরে তিনি বললেন, সে যদি ছালাত আদায় করে, ছিয়াম পালন করে ও ই’তিকাফ করে তাহলে তার নিজের উপকার হবে পক্ষান্তরে সে যদি বিদ’আতীদের বিরুদ্ধে কথা বলে তাহলে সকল মুসলিমদের উপকার হবে। আর এটাই আমার নিকটে উত্তম [ত্ববাকাতুল হানাবিলা]।
অতএব, আমরা যদি সত্যিকারার্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সম্মানিত সাহাবীগণ এবং ইমামদের অনুসারী হই তাহলে আমাদের উচিত হল, সকল বিদ’আত বর্জন করে সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন যাপন করা। সাথে সাথে নিজেকে ও উম্মাহকে সঠিক পথ দেখানো। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সেই তৌফীক দান করুন। আমীন!



![সালাতে অন্তরের উপস্থিতির [মনোযোগ] গুরুত্ব](https://alilmbd.com/wp-content/uploads/2026/10/যদি-প্রত্যেক-জালিম-তার-শাস্তি-সঙ্গে-সঙ্গে-পেয়ে-যেত-350x250.jpg)
![সালাতে অন্তরের উপস্থিতির [মনোযোগ] গুরুত্ব](https://alilmbd.com/wp-content/uploads/2026/10/তাকদীরের-প্রতি-সন্তুষ্টি_-সবর-ও-রিয়ার-এক-জীবন্ত-চিত্র-350x250.jpg)
![সালাতে অন্তরের উপস্থিতির [মনোযোগ] গুরুত্ব](https://alilmbd.com/wp-content/uploads/2026/10/দ্বীন-বোঝার-মৌলিক-ভিত্তি-350x250.jpg)
![সালাতে অন্তরের উপস্থিতির [মনোযোগ] গুরুত্ব](https://alilmbd.com/wp-content/uploads/2026/10/আমাদের-সকলের-জন্য-মৌলিক-আকীদা-ও-আমল-350x250.jpg)
![সালাতে অন্তরের উপস্থিতির [মনোযোগ] গুরুত্ব](https://alilmbd.com/wp-content/uploads/2026/10/ঈমান-বিল-কদর-তাকদীরে-বিশ্বাস-350x250.jpg)
![সালাতে অন্তরের উপস্থিতির [মনোযোগ] গুরুত্ব](https://alilmbd.com/wp-content/uploads/2026/10/আকীদাহ-অধ্যয়নের-একটি-গুরুত্বপূর্ণ-দিক-350x250.jpg)




