দ্বীন বোঝার মৌলিক ভিত্তি-
দ্বীনকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে কিছু মৌলিক নীতি জরুরি। যথা-
১. কুরআন ও সুন্নাহকে মূল উৎস হিসেবে গ্রহণ করা
২. সাহাবা ও সালাফদের বুঝ অনুযায়ী দ্বীন বোঝা
৩. ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা দলীয় ব্যাখ্যা পরিহার করা
দ্বীন শুধু ইবাদত নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, এটি বুঝা অত্যন্ত জরুরি।
ইলম বোঝার মৌলিক ভিত্তি-
ইলম বলতে শুধু তথ্য জানা নয়, বরং
১. ইলমের উদ্দেশ্য: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন
২. সহীহ উৎস থেকে জ্ঞান গ্রহণ
৩. ইলমের সাথে আমল করা
সালাফরা বলতেন: ইলম হলো যা অন্তরে প্রভাব ফেলে এবং আমলে প্রকাশ পায়।
ইসলাহ الإصلاح (সংস্কার)-এর মৌলিক ভিত্তি-
সংস্কার বলতে সমাজ পরিবর্তনকে বোঝানো হয়, কিন্তু তা হতে হবে
১. কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে
২. হিকমাহ (প্রজ্ঞা) ও ধৈর্যের সাথে
৩. ধাপে ধাপে (تدرج) পদ্ধতিতে
প্রকৃত সংস্কার কখনো আবেগনির্ভর নয়, বরং ইলমভিত্তিক।
তিনটির পারস্পরিক সম্পর্ক-
এই তিনটি বিষয় একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। যেমন-
দ্বীন ছাড়া ইলম পথভ্রষ্টতা।
ইলম ছাড়া দ্বীন বোঝা অজ্ঞতা।
ইলম ও দ্বীন ছাড়া সংস্কার বিশৃঙ্খলা।
তাই প্রকৃত اصلاح (সংস্কার) কেবল তখনই সম্ভব, যখন তা সহীহ ইলম ও সঠিক দ্বীনি বোঝাপড়ার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুতরাং যে ব্যক্তি দ্বীনকে সঠিকভাবে বুঝতে চায়, তাকে আগে ইলমের ভিত্তি শক্ত করতে হবে। আর যে সমাজকে সংস্কার করতে চায়, তাকে আগে নিজেকে দ্বীন ও ইলম দ্বারা গঠন করতে হবে।
– আব্দুল হাকীম মাদানী।