•• পাপকে নেক আমলে ডুবিয়ে দিন ••
যে গুনাহ আপনি সহজে ছাড়তে পারছেন না, যার কাঁটা ভাঙতে পারছেন না, যার শিকড় আপনার হৃদয় থেকে উপড়ে ফেলতে পারছেন না, তাহলে সেই গুনাহের দরজায় বসে শুধু আফসোস করতে থাকবেন না, আর জীবনের সবটা সময় হতাশা ও ভেঙে পড়ার চক্রে কাটিয়ে দিবেন না। কারণ শয়তান শুধু আপনাকে গুনাহগার বানাতে চায় না; সে চায় আপনি হতাশ হয়ে পড়ুন, ভেঙে পড়ুন, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যান।
যতক্ষণ আপনার অন্তরে প্রাণ আছে, আপনার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে শক্তি আছে, আর আকাশে একজন দয়ালু রব আছেন, ততক্ষণ আশা হারানোর কোনো সুযোগ নেই। কারণ নেক আমল যখন জমতে থাকে, তখন তা পাল্লাকে ভারী করে দেয়, আর গুনাহকে এমনভাবে চেপে ধরে যে তা লজ্জায় শুকিয়ে যায়; নিজের শক্তিতে নয়, বরং হৃদয়ের লজ্জা ও ঈমানের কারণে।
যতক্ষণ আপনার নিঃশ্বাস চলছে, আর হৃদয়ে লজ্জা জাগে, জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার গুনাহের চেয়েও আপনার কাছে অধিক নিকটবর্তী, আর আপনি নিজের প্রতি যতটা দয়ালু নন, তিনি তার চেয়েও বেশি দয়ালু।
তাই গুনাহকে নেক আমলের স্রোতে ডুবিয়ে দিন। একে একা ছেড়ে দিবেন না; বরং চারদিক থেকে ঘিরে ফেলুন। যখনই দুর্বল হয়ে পড়বেন, তখনই নেক আমল বাড়িয়ে দিন। একসময় সেই গুনাহ নিজেই অনুভব করবে, সে এই পবিত্র আমলের ভিড়ে এক অচেনা, এক অনুপ্রবেশকারী।
যদি শয়তান জানত, আপনার প্রতিটি হোঁচট একটি দুআ জন্ম দেয়, প্রতিটি দুর্বলতা আপনাকে ইস্তিগফারের দিকে নিয়ে যায়, তাহলে সে হয়তো আপনাকে এভাবেই ছেড়ে দিত! কারণ মানুষের অন্তরকে শুষ্ক বর্জন নয়, বরং আল্লাহর দরজায় বারবার কড়া নাড়া, এই জিনিসই পরিশুদ্ধ করে।
যেমন প্রবাহিত পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়, তেমনি অধিক পরিমাণ নেক আমল গুনাহকে ঢেকে ফেলে, মুছে দেয় তার প্রভাব।
সুতরাং গুনাহকে আপনার জন্য পতনের কারণ বানিয়েন না; বরং এটাকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার দরজা বানান। পথ দীর্ঘ মনে হলেও নিরাশ হবেন না, আল্লাহ আপনার সংগ্রাম দেখেন, আপনি পড়ে গেলে আপনার দীর্ঘশ্বাস শুনেন, আর আপনার পবিত্রতার আকাঙ্ক্ষা জানেন, যদিও আপনি এখনো তা পুরোপুরি অর্জন করতে পারেননি।
তাই গুনাহকে নেক আমলে ডুবিয়ে দিন। কারণ পানি যখন অপবিত্রতার উপর প্রবাহিত হয়, তখন জমিন পবিত্র হয়ে যায়।
মহান আল্লাহর বাণী, নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ পাপসমূহকে মুছে দেয়। (সূরা হূদ: ১১৪)।
– আল ইলম ইন্সটিটিউট
আমচত্বর, নওদাপাড়া রাজশাহী-৬২০৩।