কুরআনের সাথী হওয়া-
সাধারণত আমরা বইয়ের সঙ্গ গ্রহণ করি পথ খুঁজে পাওয়ার জন্য ও জীবনের চলার দিশা জানার জন্য। কিন্তু এই পৃথিবীতে এমন একটি গ্রন্থ আছে, যার সঙ্গ যদি সত্যিকারভাবে গ্রহণ করা যায়, তবে সে নিজেই মানুষকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে। সেটি হলো মহান আল্লাহর কালাম, মহাগ্রন্থ আল-কুরআন।
এই বাস্তবতাকে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহীভাবে তুলে ধরেছেন মাইমূন ইবনু মিহরান (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কুরআনকে অনুসরণ করে, কুরআন তাকে নেতৃত্ব দিয়ে জান্নাতে পৌঁছে দেয়। আর যে কুরআনকে ত্যাগ করে, কুরআন তাকে ছেড়ে দেয় না, বরং তাকে টেনে নিয়ে যায় জাহান্নামের দিকে।
এই কথাটি গভীরভাবে চিন্তা করলে হৃদয় কেঁপে ওঠে। এতে এমন এক শক্তিশালী ঈমানী বার্তা নিহিত রয়েছে, যা মানুষের অন্তরকে নাড়া দেয় এবং আত্মাকে জাগ্রত করে।
একটু থেমে ‘কুরআন তাকে নেতৃত্ব দেয়’ এই কথাটির উপর ধ্যান-চিন্তা করলে দেখা যায়, যেন কুরআন একজন পথপ্রদর্শকের মতো মানুষের হাত ধরে আছে। জীবনের কঠিন পথ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নানা মোড়ে সে তাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। যখন দুনিয়ার ঝড়-ঝাপটা মানুষকে ক্লান্ত করে দেয়, তখন কুরআন তাকে শক্তি জোগায়। যখন সে দ্বিধা, হতাশা বা নিঃসঙ্গতায় ভোগে, তখন কুরআন তার কাঁধে সান্ত্বনার হাত রাখে। যখন বাতিল শক্তি আক্রমণ করে, তখন কুরআন তার অন্তরে দৃঢ়তা ও ইয়াকীন ঢেলে দেয়।
এভাবে কুরআন তার অনুসারীকে ধাপে ধাপে সত্যের পথে পরিচালিত করে সেই উজ্জ্বল পথে, যাকে বলা হয় ‘মাহাজ্জাতুল বায়যা’ সালাফদের অনুসৃত নির্মল ও সোজা পথ।
এই বর্ণনাটি আমাদের সামনে এক অনন্য চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। যেখানে কুরআন শুধু একটি পাঠ্যগ্রন্থ নয়, বরং একজন জীবন্ত পথপ্রদর্শক, একজন দিশারি, একজন নেতা।
সারকথা হলো কুরআনের নেতৃত্বই প্রকৃত মুক্তির পথ। যে ব্যক্তি কুরআনের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে কুরআন পড়ে, তা বুঝে এবং তার উপর আমল করে, সে কখনো পথভ্রষ্ট হয় না; বরং কুরআন তাকে নিরাপদে জান্নাতের দিকে পৌঁছে দেয়। আর যে ব্যক্তি কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে নিজেই নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
অতএব, আমাদের উচিত কুরআনকে শুধু তিলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করা, যাতে কুরআন আমাদের হাত ধরে এই দুনিয়ার আঁধার পেরিয়ে, আখিরাতের আলোয় পৌঁছে দেয়।