পবিত্র কাবাঘর: বাহ্যিক ও আত্মিক পবিত্রতার শিক্ষা
আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿وَإِذۡ بَوَّأۡنَا لِإِبۡرَٰهِيمَ مَكَانَ ٱلۡبَيۡتِ أَن لَّا تُشۡرِكۡ بِي شَيۡـَٔا وَطَهِّرۡ بَيۡتِيَ لِلطَّآئِفِينَ وَالۡقَآئِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ﴾
“আর স্মরণ করো, যখন আমি ইবরাহিমকে ঘরের স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম এবং নির্দেশ দিয়েছিলাম যে, আমার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর আমার ঘরকে পবিত্র রাখবে তাওয়াফকারী, সালাতে দাঁড়ানো ব্যক্তি এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য। [সূরা আল-হাজ্জ, ২২:২৬]
শাইখ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকীতী (রহ.) বলেন: এই মহান আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর পবিত্র ঘরের কাছে কোনো ধরনের অপবিত্রতা, নৈতিক বা আত্মিক নোংরামি কিংবা বাহ্যিক ও শারীরিক নাপাকির কিছুই ছেড়ে রাখা বৈধ নয়। সেখানে এমন কাউকেও ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, যে আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয় এমন কাজ করে; কিংবা এমন কাউকে, যে নাপাকির মাধ্যমে ঘরটিকে দূষিত করে।
আদওয়াউল বায়ান ফি ইদাহিল কুরআনি বিল কুরআন, ৫/৬৮।
আয়াতের শিক্ষা
এই আয়াত আমাদের শেখায়, আল্লাহর ঘরের পবিত্রতা রক্ষা করা কেবল বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে তাওহিদ, ইবাদতের শুদ্ধতা এবং আল্লাহর নির্দেশের প্রতি সম্মানও জড়িত। কাবাঘরকে যেমন দৃশ্যমান নাপাকি থেকে পবিত্র রাখতে হয়, তেমনি আল্লাহর ঘরের মর্যাদার সঙ্গে অসংগত আচরণ, গুনাহ ও শিরক থেকেও বিরত থাকা জরুরি।
আল্লাহর ঘর ইবাদত, তাওহিদ ও আনুগত্যের কেন্দ্র। তাই সেখানে আগত প্রত্যেক মুসলিমের উচিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অন্যের কষ্টের কারণ না হওয়া, ইবাদতের পরিবেশের মর্যাদা রক্ষা করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
আল্লাহ আমাদের তাঁর পবিত্র ঘরের যথাযথ সম্মান রক্ষা করার এবং বাহ্যিক ও আত্মিক পবিত্রতা অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন!