দুনিয়ায় মানুষ সাধারণত দুটি জিনিসের পেছনেই ছুটে বেড়ায় সম্পদ ও সন্তান। অর্থ, প্রতিষ্ঠা, পরিবার, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা এসব অর্জনকেই আমরা অনেক সময় জীবনের সাফল্যের মাপকাঠি মনে করি।
কিন্তু হযরত ইবরাহিম عليه السلام আমাদের সামনে সাফল্যের সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি মানদণ্ড তুলে ধরেছেন। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন—
وَلَا تُخْزِنِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
অর্থাৎ, যেদিন মানুষ পুনরুত্থিত হবে, সেদিন আমাকে লাঞ্ছিত করো না। যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান কোনো কাজে আসবে না; তবে যে ব্যক্তি সুস্থ-সালিম অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে, সে ব্যতীত। সূরা আশ-শু‘আরা: ৮৭–৮৯।
তাহলে কিয়ামতের দিন প্রকৃত সফল কে?
যার সবচেয়ে বেশি সম্পদ আছে সে নয়।
যার সবচেয়ে বেশি সন্তান আছে সে নয়।
যার দুনিয়াবি পরিচিতি ও মর্যাদা সবচেয়ে বেশি সে-ও নয়।
প্রকৃত সফল সে-ই, যে আল্লাহর সামনে একটি ‘কলবুন সালীম’ তথা পরিশুদ্ধ ও সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হতে পারবে।
তাই দুনিয়ার বাহ্যিক জীবন গুছিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আমাদের অন্তরের দিকেও মনোযোগী হওয়া জরুরি। অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে হবে হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার, জুলুম, প্রবৃত্তির দাসত্ব, রিয়া, শিরক, কপটতা ও মানুষের প্রতি অসৎ মনোভাব থেকে।
আমরা ঘর সুন্দর করি, পোশাক সুন্দর করি, শরীরের যত্ন নিই, সম্পদ বাড়ানোর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করি। অথচ যে অন্তর নিয়ে একদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, সেই অন্তরটিই হয়তো অবহেলায় পড়ে থাকে।
মনে রাখা দরকার—
দুনিয়ার জন্য যতটা শ্রম দিচ্ছেন, নিজের অন্তর সংশোধনের জন্যও অন্তত ততটাই চেষ্টা করুন।
কারণ একদিন এমন একটি দিন আসবে, যেদিন আপনার ব্যাংক ব্যালান্স, সম্পদ, সন্তান, পরিচিতি কিছুই আপনার মুক্তির নিশ্চয়তা দেবে না।
সেদিন আপনার সঙ্গে থাকবে আপনার অন্তর এবং আমল।
তাই আজ থেকেই অন্তরকে প্রশ্ন করুন—
আমার অন্তরে কি হিংসা আছে?
বিদ্বেষ আছে?
রিয়া আছে?
অহংকার আছে?
মানুষের প্রতি জুলুম বা বিদ্বেষ আছে?
আল্লাহর সঙ্গে এমন কোনো সম্পর্ক আছে, যা শিরকের দিকে নিয়ে যায়?
কারণ আখিরাতের সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি শুধু বাহ্যিক আমল বৃদ্ধি করা নয়; মহান আল্লাহর সামনে একটি পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করা।
দুনিয়ার জন্য সম্পদ জমাই, ভবিষ্যতের জন্য সন্তান গড়ি; কিন্তু আখিরাতের জন্য একটি সুস্থ অন্তরও গড়ে তুলি। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হৌন। আমীন! বারাকাল্লাহু ফিকুম।