সালাতের ভেতরে ও বাইরে কুরআনের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক গড়ে তুলুন
কুরআন শুধু নির্দিষ্ট কোনো সময়ের জন্য নয়। সালাতের ভেতরে যেমন কুরআন তিলাওয়াত করুন, তেমনি সালাতের বাইরেও নিয়মিত তিলাওয়াতের জন্য একটি নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করুন।
নফল সালাতগুলোকে কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন। তাহাজ্জুদ, সালাতুদ দুহা এবং অন্যান্য নফল ও সুন্নাত সালাতে আপনার নির্ধারিত ওয়ার্দ থেকে তিলাওয়াত করতে পারেন। ফজরের দুই রাকাত সুন্নাতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুযায়ী সূরা আল-কাফিরূন ও সূরা আল-ইখলাস পড়া যায়। অন্যান্য নফল সালাতেও আপনার সুবিধা অনুযায়ী কুরআন থেকে তিলাওয়াত করুন। দুই ফরজ সালাতের মধ্যবর্তী সময়ও কুরআনের জন্য কাজে লাগাতে পারেন। বিশেষ করে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়টুকু অলসতায় নষ্ট না করে কুরআনের সঙ্গে কাটানো যেতে পারে।
আর সালাতের বাইরে, দিনের শুরুতেই কুরআনের জন্য সময় নির্ধারণ করুন। ফজরের পর আপনার দিনের অন্যতম প্রথম কাজ হিসেবে এক বা দুই পারা কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এরপর দিনের অন্যান্য কাজে বেরিয়ে পড়ুন।
দেখবেন, ধীরে ধীরে কুরআন আপনার দিনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে। আপনার অন্তরে প্রশান্তি, জীবনে বরকত, কাজে উদ্যম এবং ইবাদতে এক ধরনের আনন্দ ও স্বস্তি অনুভূত হতে পারে। কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক যত গভীর হবে, ততই তিলাওয়াতের প্রতি আপনার আগ্রহ বাড়তে থাকবে।
একসময় হয়তো আপনি অবাক হয়ে দেখবেন, প্রতিদিন পাঁচ পারা কুরআন তিলাওয়াত করছেন, কখনো তারও বেশি। অথচ শুরুটা হয়েছিল মাত্র এক বা দুই পারা দিয়ে।
মূল বিষয় হলো নিয়মিততা ও হিম্মত। একদিন অনেক পড়া, তারপর কয়েকদিন ছেড়ে দেওয়া নয়; বরং প্রতিদিন কুরআনের সঙ্গে কিছুটা হলেও সময় কাটানো। অল্প দিয়ে শুরু করুন, কিন্তু থেমে যাবেন না।
হিম্মত রাখুন, কুরআনকে আপনার দিনের সঙ্গী বানান। কুরআনের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক যত গভীর হবে, ইনশা আল্লাহ আপনার জীবনেও তার প্রভাব তত স্পষ্ট হয়ে উঠবে।