সৎ সঙ্গী হৃদয়ের প্রশান্তি ও দ্বীনের শক্তি
আপনি যদি জীবনের পথ চলায় সত্যিকার কল্যাণ, স্থিরতা ও দ্বীনের ওপর দৃঢ়তা অর্জন করতে চান, তবে জেনে রাখুন সৎ সঙ্গী (صحبة صالحة) তার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। মানুষ একা পথ চলে না; বরং সে তার সঙ্গীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়, গড়ে ওঠে, কখনো উন্নত হয় আবার কখনো ধ্বংসের দিকেও ধাবিত হয়।
ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ইসলামের পর কোনো বান্দাকে এর চেয়ে উত্তম নিয়ামত দেওয়া হয়নি, একজন নেককার বন্ধু। তাই তোমাদের কেউ যদি তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে ভালোবাসা পায়, তবে সে যেন তাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে।
আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন, সৎ বন্ধুত্ব কেবল দুনিয়াবি সম্পর্ক নয়; এটি আখিরাতের পুঁজি। একজন নেক সঙ্গী আপনাকে সালাতে উৎসাহিত করবে, গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনবে, আল্লাহর কথা স্মরণ করাবে এবং বিপদের সময় আপনার পাশে থাকবে।
ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, যদি তোমার এমন কোনো বন্ধু থাকে, যে তোমাকে আল্লাহর আনুগত্যে সাহায্য করে, তবে তাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো। কারণ, বন্ধুত্ব তৈরি করা কঠিন, কিন্তু তা হারানো খুব সহজ।
এই কথার গভীরতা আপনি তখনই অনুভব করবেন, যখন জীবনের কোনো কঠিন সময়ে একজন সত্যিকারের বন্ধুকে পাশে পাবেন। আর যদি এমন বন্ধু হারিয়ে ফেলেন, তখন বুঝবেন তার মূল্য কতটা ছিল।
ইতিহাসে আমরা ইমাম আহমাদ ও ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুমাল্লাহ )-এর বন্ধুত্বের এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত পাই। একবার ইমাম আহমাদ অসুস্থ হলে ইমাম শাফেঈ তাকে দেখতে গিয়ে অত্যন্ত ব্যথিত হলেন। পরে যখন ইমাম শাফেঈ নিজেই অসুস্থ হলেন, তখন ইমাম আহমাদ নিজের দুর্বলতা উপেক্ষা করে তাকে দেখতে গেলেন। তখন ইমাম শাফেঈ ভালোবাসার আবেগে বললেন,
প্রিয়জন অসুস্থ হলে আমি তাকে দেখতে যাই,
তার কষ্টে আমিও কষ্ট পাই।
আর যখন সে সুস্থ হয়ে আমাকে দেখতে আসে,
তাকে দেখেই আমি সুস্থ হয়ে যাই।
এই ঘটনা আমাদেরকে শেখায় যে, সৎ বন্ধুত্ব শুধু কথার নয়; এটি হৃদয়ের সম্পর্ক, দুঃখে-সুখে পাশে থাকার এক বাস্তব অঙ্গীকার।
আপনি যদি আপনার জীবনকে পরিবর্তন করতে চান, তবে প্রথমে আপনার সঙ্গী বেছে নিন। কারণ, খারাপ সঙ্গ ধীরে ধীরে ঈমানকে দুর্বল করে, আর সৎ সঙ্গ ঈমানকে শক্তিশালী করে। অনেক সময় আপনি নিজে যতটা পরিবর্তন করতে পারেন না, একজন নেক সঙ্গী আপনাকে তার চেয়েও বেশি উন্নত করে তুলতে পারে।
তাই আপনি এমন বন্ধু নির্বাচন করুন যে আপনাকে দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতের কথা বেশি স্মরণ করায়, যে আপনার গুনাহ দেখে চুপ থাকে না, যে আপনার কল্যাণ চায় নিঃস্বার্থভাবে।
পরিশেষে মহান আল্লাহর কাছে দুআ করি,
হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে এমন সৎ সঙ্গী দান করুন, যারা আমাদেরকে আপনার আনুগত্যে সাহায্য করবে, আমাদের ঈমানকে শক্তিশালী করবে এবং জান্নাতের পথে আমাদের সহযাত্রী হবে। আমীন!
– আব্দুল হাকীম মাদানী
আল-ইলম ইন্সটিটিউট রাজশাহী।