মুসলমানদের মাঝে প্রথম কে গ্রন্থ-রচনা শুরু করেছিলেন?
ইসলামের ইতিহাসে প্রথম গ্রন্থ-রচয়িতা কে?
এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। এখানে ‘প্রথম’ বলতে বোঝানো হয়েছে বিন্যস্ত (مرتب) ও বিষয়ভিত্তিক (مبوب) গ্রন্থ-রচনা; স্রেফ লিখে রাখা নয়। কেননা, সাহাবায়ে কিরামদের যুগেই লেখালেখি ছিল, কিন্তু তা ছিল মূলত সংরক্ষণ বা ব্যক্তিগত নোট আকারে; বিন্যস্ত বা অধ্যায়ভাগে বিভক্ত নয়। ইমাম ইবনু রজব হাম্বালী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
সাহাবা ও তাবেয়ীনদের সময়ে যা লেখা হতো তা প্রকৃত অর্থে বিন্যস্ত-শাস্ত্রগ্রন্থ ছিল না; বরং ছিল কেবল হেফাজত ও পর্যালোচনার জন্য।
❖প্রথম গ্রন্থ-রচনার বিষয়ে মতভেদ-
গবেষকরা এ বিষয়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন। কেউ ঢালাওভাবে বলেছেন, আবার কেউ বলেছেন অঞ্চলভিত্তিকভাবে। আসলে এ বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে কাউকে প্রথম বলা কঠিন, কারণ যাদের নাম এসেছে তারা প্রায় একই যুগের মানুষ। কারো চূড়ান্ত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হলে শক্ত প্রমাণ প্রয়োজন। তাই সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো অঞ্চলভিত্তিক প্রথম রচয়িতা নির্ধারণ করা।
❖কিছু বড় ইমামের বক্তব্য-
– ইমাম আব্দুর রাজ্জাক আস্-সানআনীর মতে,
প্রথম যে গ্রন্থ-রচনা করেছেন তিনি হলেন ইবনু জুরাইজ (আব্দুল মালিক ইবনু আব্দুল আযীয, মৃত ১৫০ হি.), আর লেখনী হিসেবে করেছেন আল-আওযাঈ (আব্দুর রহমান ইবনু আমর, মৃত ১৫৭ হি.)।
▪️ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহর ছেলে আব্দুল্লাহ বলেন, আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘প্রথম গ্রন্থ-রচয়িতা কে?’ তিনি বললেন, ইবনু জুরাইজ, অতঃপর ইবনু আবী আরুবাহ (মৃত ১৫৮ হি.), এবং এদের মতো আরও কয়েকজন।
▪️ ইমাম তিরমিযী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
আমরা দেখেছি অনেক ইমাম এমন সব গ্রন্থ-রচনা করেছেন, যাতে তাদের পূর্বে কেউ হাত দেয়নি। তাদের মধ্যে আছেন:
– হিশাম ইবনু হাসান (মৃত ১৪৮ হি.),
– ইবনু জুরাইজ
– সাঈদ ইবনু রাবী আরুবাহ
– ইমাম মালিক (মৃত ১৭৯ হি.),
– হাম্মাদ ইবনু সালামাহ (মৃত ১৬৭ হি.),
– আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (মৃত ১৮১ হি.),
– ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়া (মৃত ১৮২ হি.),
– ওয়াকী‘ ইবনে জাররাহ (মৃত ১৯৭ হি.), এবং
– আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী।
▪️ আবু মুহাম্মাদ আর-রামাহুরমুযী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমার জানা মতে প্রথম যিনি বই রচনা ও অধ্যায়বিন্যাস করেছেন তিনি হলেন, রবী’ ইবনে সুবাইহ (মৃত ১৬০ হি.), বসরায়। এরপর সাঈদ ইবনু আবী আরুবাহ। এরপর খালিদ ইবনু জামীল (আল-আবদ)।
ইয়েমেনে মা’মার ইবনু রাশিদ (মৃত ১৫৩ হি.)।
মক্কায় ইবনু জুরাইজ।
কুফায় সুফিয়ান আস্-সাওরী (মৃত ১৬১ হি.)।
বসরায় হাম্মাদ ইবনে সালামাহ।
মক্কায় সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা (মৃত ১৯৮ হি.)।
শামে ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম (মৃত ১৫৯ হি.)।
রাই শহরে জারীর ইবনু আব্দুল হামীদ (মৃত ১৮৮ হি.)।
খোরাসানে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক।
ওয়াসেতে হুশাইম ইবনে বাশীর (মৃত ১৮৩ হি.)।
এরপর ইয়েমেনে গ্রন্থ-রচনা করেন ইমাম আব্দুর রাজ্জাক আস্-সানআনী (মৃত ২১১ হি.)। এবং আবু কুররা মূসা ইবনু তারিক আল-ইয়ামানী (মৃত ২০৩ হি.)।
◾ ইয়াকুব ইবনে শাইবা রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
লোকেরা বলে কুফায় প্রথম গ্রন্থ-রচয়িতা হলেন ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়া ইবনু আবী যায়িদা, আর বসরায় প্রথম রচয়িতা হলেন হাম্মাদ ইবনু সালামাহ।
❖ উদ্ধৃতি/তথ্যসূত্র:
– ইয়াকুব ইবনু শাইবা আস-সাদুসী কর্তৃক লিখিত “آثارهه ومَنهَجُه في الجرح والتعديل”, পৃ. ২১৭।
– ৪ মার্চ, ২০২৬ / ১৪ রামাযান, ১৪৪৭
আমচত্বর, নওদাপাড়া, রাজশাহী-৬২০৩।