উমর (রা.)-এর আল্লাহভীতি ও জবাবদিহির অনুভূতি
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) যখন ছুরিকাহত হলেন, তখন আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) তাঁকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে তাঁর উত্তম সাহচর্য, আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁদের উভয়ে তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা ও তাঁকে সন্তুষ্ট অবস্থায় বিদায় নেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন।
কিন্তু উমর (রা.) নিজের এসব মর্যাদা ও ফজিলতের কৃতিত্ব নিজের দিকে ফিরিয়ে দিলেন না; বরং এগুলোকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে দেখলেন। এরপর তিনি বললেন:
وَاللَّهِ لَوْ أَنَّ لِي طِلَاعَ الْأَرْضِ ذَهَبًا لَافْتَدَيْتُ بِهِ مِنْ عَذَابِ اللَّه عَزَّ وَجَلَّ قَبْلَ أَنْ أَرَاهُ
“আল্লাহর শপথ! সমগ্র পৃথিবী পরিমাণ স্বর্ণও যদি আমার থাকত, তাহলে আল্লাহর শাস্তি দেখার আগেই তা দিয়ে সেই শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার বিনিময় দিতে চাইতাম।”
এখানে ‘طِلَاعَ الْأَرْضِ’ অর্থ হলো, পৃথিবীকে পূর্ণ করে দেয় এমন পরিমাণ সম্পদ।
সূত্র: সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৩৬৯২; ইবনু হাজার আসকালানি, ফাতহুল বারি, উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যা।
এই ঘটনাটিতে দুটি হৃদয়গ্রাহী দিক রয়েছে। ইবনু আব্বাস (রা.) উমর (রা.)-কে তাঁর জীবনের ফজিলত ও মর্যাদা স্মরণ করিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। আর উমর (রা.) তখন নিজের দায়িত্ব, আমানত এবং আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর কঠিন বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা করছিলেন।
এটাই ছিল তাঁর আল্লাহভীতির গভীরতা। এত বড় মর্যাদা, এত অসাধারণ অবদান এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সান্নিধ্য লাভের পরও তিনি নিজের আমল নিয়ে আত্মতুষ্ট ছিলেন না। বরং আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার প্রয়োজনীয়তাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল।
শিক্ষা: নেক আমল ও মর্যাদা অর্জন করে আত্মতুষ্ট হওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। বরং নেক আমল যত বাড়বে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা এবং তাঁর রহমতের মুখাপেক্ষিতা তত গভীর হওয়া উচিত। নিজের আমলের ওপর ভরসা করে নয়, বরং আমল করার তাওফিককে আল্লাহর অনুগ্রহ মনে করে তাঁর রহমত কামনা করাই মুমিনের পথ।