হাবীব আল-আবিদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি বসরায় প্রবেশ করলাম। দেখলাম, সেখানকার বাজারগুলো বন্ধ হয়ে আছে!
আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম, তোমাদের কি এমন কোনো ঈদের দিন চলছে, যা আমি জানি না?
তারা বলল, না। হাসান আল-বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ) মসজিদে মানুষকে নসিহত করছেন (উপদেশ দিচ্ছেন)।
— আল-মাওয়ায়িয ওয়াল মাজালিস, পৃ. ১৮১
শিক্ষা ও উপকারিতা-
এই ঘটনা সালাফে সালেহীনের যুগে ইলম, আলেম ও দ্বীনি মজলিসের মর্যাদা কত গভীর ছিল তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আজকের যুগে মানুষের কাছে বাজার, ব্যবসা, বিনোদন ও দুনিয়াবি ব্যস্ততা অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সালাফদের কাছে একজন সত্যিকারের আলেমের নসিহত শোনা ছিল এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার জন্য তারা নিজেদের দুনিয়াবি কাজও সাময়িকভাবে ছেড়ে দিতেন।
১. ইলম ছিল তাদের জীবনের অগ্রাধিকার-
তারা জানতেন দুনিয়ার উপার্জন মানুষকে কিছু সময়ের স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু ইলম মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার পথ দেখায়। আল্লাহ তাআলা বলেন
﴿يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ﴾
আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের মর্যাদা বহু স্তরে উন্নীত করবেন। সূরা আল-মুজাদালাহ: ১১।
২. আলেমদের মজলিস ছিল হিদায়াতের স্থান-
হাসান আল-বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন তাবেয়ীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও নসিহতকারী। তাঁর মজলিসে মানুষ শুধু জ্ঞান অর্জনের জন্য নয়, নিজেদের অন্তর সংশোধনের জন্যও উপস্থিত হতো।
তারা মনে করতেন, একটি উপকারী কথা মানুষের জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে।
৩. ইলমের জন্য দুনিয়াবি ব্যস্ততা ত্যাগ করা-
বাজার বন্ধ হওয়ার ঘটনা দেখায়, তারা ইলমকে কতটা গুরুত্ব দিতেন।
এটি ব্যবসা-বাণিজ্য পরিত্যাগের শিক্ষা নয়; বরং শিক্ষা হলো যখন দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের সুযোগ আসে, তখন তাকে তুচ্ছ করে দুনিয়ার কাজে ডুবে থাকা উচিত নয়।
৪. আলেমের মর্যাদা-
সালাফরা আলেমদের সম্মান করতেন, কারণ তারা জানতেন আলেমরা নবীদের উত্তরাধিকার বহন করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
«العلماء ورثة الأنبياء»
আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী। আবু দাউদ, তিরমিযী।
৫. বর্তমান সময়ের জন্য শিক্ষা-
আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত
আমরা কি ইলমের মজলিসকে গুরুত্ব দিই?
উপকারী দ্বীনি আলোচনা শোনার জন্য সময় বের করি?
আলেমদের কাছ থেকে শেখার আগ্রহ রাখি?
নাকি দুনিয়ার ব্যস্ততাকে সবকিছুর ওপর প্রাধান্য দিই?
সালাফদের এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-
যে জাতি ইলমকে সম্মান করে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। আর যে জাতি ইলমকে অবহেলা করে, তারা অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তির শিকার হয়।
আল্লাহ আমাদেরকে উপকারী ইলম অর্জনকারী এবং ইলম অনুযায়ী আমলকারী বানান। আমীন!