প্রাচীনকালে মানুষ তাদের কিশোরী ও অবিবাহিত মেয়েদের এমন কবিতাও শোনানো থেকে বিরত রাখত, যাতে ফিতনার আশঙ্কা ছিল। তাহলে আজকের এমন গান ও বিনোদনের অবস্থা কী হবে, যেখানে নারী-পুরুষের প্রলোভনসৃষ্টিকারী কণ্ঠ, অঙ্গভঙ্গি ও উত্তেজক নৃত্য একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়?
এর সঙ্গে যদি সিনেমা-সিরিজে প্রেমের দৃশ্য, অবৈধ সম্পর্কের চিত্র এবং শোবার ঘরের ব্যক্তিগত বিষয়গুলোও প্রদর্শন করা হয়, তাহলে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
অথচ এরপর আমরা সমাজের অবস্থা খারাপ হওয়ার অভিযোগ করি!
লেখক একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন—তিনি একটি ভবনের প্রবেশপথে ১৬ বছরের কম বয়সী এক কিশোরকে এক কিশোরীর সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠ ও অনৈতিক আচরণ করতে দেখেছেন, যা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মতো ছিল; শুধু পূর্ণ যৌনসম্পর্ক পর্যন্ত পৌঁছায়নি। এরপর তিনি বলেছেন:
> “সুতরাং অভিযোগ তো আল্লাহর কাছেই।”
সালাফদের সতর্কতা-
ইবনু জুরাইজ (রহ.) বলেন:
> «ما دخل على العواتق في حجالهن شيء أضر عليهن من شعر عمر بن أبي ربيعة»
“অবিবাহিত তরুণীদের অন্তঃপুরে উমর ইবন আবি রাবী‘আহর কবিতার চেয়ে ক্ষতিকর কোনো কিছু প্রবেশ করেনি।”
হিশাম ইবন উরওয়া (রহ.) বলতেন:
> «لا ترووا فتياتكم شعر عمر بن أبي ربيعة لا يتورطن في الزنا تورطًا»
“তোমাদের কিশোরী মেয়েদের উমর ইবন আবি রাবী‘আহর কবিতা বর্ণনা করো না; অন্যথায় তারা যেন ব্যভিচারে জড়িয়ে না পড়ে।”
ফাতিমাহ বিনতে উমর ইবন মুস‘আব বলেন, একবার তিনি একটি খাতা নিয়ে আবদুল্লাহ ইবন মুস‘আবের কাছে যাচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন:
“তোমার সঙ্গে এটা কী?”
তিনি বললেন: “উমর ইবন আবি রাবী‘আহর কবিতা।”
তিনি বললেন-
> “আফসোস! তুমি নারীদের কাছে উমর ইবন আবি রাবী‘আহর কবিতা নিয়ে প্রবেশ করছ?! তার কবিতার হৃদয়ের ওপর গভীর প্রভাব রয়েছে এবং তা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে হৃদয়ে প্রবেশ করে। যদি কোনো কবিতা জাদু করার ক্ষমতা রাখত, তবে তার কবিতাই যেন তা করত। এটি ফিরিয়ে নিয়ে যাও।”
তিনি বলেন, অতঃপর আমি সেটি ফিরিয়ে নিয়ে গেলাম।
মূল শিক্ষা-
এই বক্তব্যের মূল শিক্ষা হলো—মানুষের অন্তর ও চরিত্র গঠনে বিনোদন, সাহিত্য, দৃশ্য ও শ্রুতির গভীর প্রভাব রয়েছে। তাই সন্তানদের কী দেখানো হচ্ছে, কী শোনানো হচ্ছে এবং কোন পরিবেশে বড় করা হচ্ছে—এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্যও মনে রাখা দরকার: সব কবিতা, গান, সাহিত্য বা নাটককে একই হুকুমে ফেলা ঠিক নয়। সালাফদের সতর্কতার মূল বিষয় ছিল এমন বিষয়বস্তু, যা কামনা-বাসনা উসকে দেয়, অশ্লীলতাকে আকর্ষণীয় করে তোলে এবং হারামের দিকে নিয়ে যায়।
আজকের যুগে তাই বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন—কারণ আগের যুগে যে বিষয়ের জন্য একটি কবিতার খাতা এড়িয়ে চলতে বলা হতো, আজ একই ধরনের বিষয় স্মার্টফোনের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডেই একজন কিশোরের সামনে পৌঁছে যেতে পারে।
সন্তানের হাতে প্রযুক্তি দেওয়ার আগে তার অন্তরে তাকওয়া, লজ্জাবোধ ও আত্মসংযম গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।