▪️রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ কি পরিবারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে?
هل دمرت الرأسمالية الأسرة؟
ড. আলা নাসিফ- এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমৃদ্ধ সংলাপ। যা إذاعة ثمانية ইউটিউব চ্যানেলে পডকাস্ট আলোচনায় আছে।
ড. আলা নাসিফ এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন। তিনি একজন গবেষক ও পারিবারিক বিষয়ে আগ্রহী বিশিষ্ট আলোচক। তিনি এখানে নারীর ভূমিকা নিয়ে, বিশেষভাবে আলোচনা করেন— মা হিসেবে, পরিবারের আশ্রয়দাত্রী হিসেবে এবং একজন পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব হিসেবে যার দায়িত্ব পালনে অন্য কোনো বাহ্যিক উপাদান আসলেই প্রতিস্থাপন করতে পারে না। তিনি এসব বিষয় গভীরভাবে তুলে ধরেন।
ড. আলা নাসিফ আলোচনায় তুলে ধরেন কীভাবে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি আমাদের মুসলিম সমাজে নারীদের মূল দায়িত্ব ও মিশন থেকে বিচ্যুত করেছে— অর্থাৎ মায়ার চাকচিক্যে, কর্মক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতা, চাকরির পদ-পদবি, আর্থিক স্বকীয়তা ও তথাকথিত ক্ষমতা অর্জনের নামে নারীদের প্রতারিত করেছে।
▪️ড. আলা নাসিফ-এর আলোচনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর ভাবনার সারাংশ-
– শিক্ষার ভুল ব্যাখ্যা: আমরা এখন শিক্ষার উদ্দেশ্য বলতে বুঝি শুধুই চাকরি বা শ্রমবাজারে প্রবেশ। অথচ, শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো সুনির্দিষ্টভাবে তারবিয়াহ বা সঠিকভাবে গড়ে তোলা। তাই নারীদের অনেকেই মেনে নিতে পারেন না যে তারা দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করেও ঘরে বসে সন্তানদের লালন-পালন করবেন— যা আসলে সেই শিক্ষার সবচেয়ে কার্যকরী প্রয়োগ।
– রক্ষণাবেক্ষণ বনাম লালন-পালন: মানুষ সাধারণতঃ শিশুদের খাওয়া-পরা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ইত্যাদি দেখাশোনাকে লালন-পালন মনে করে। অথচ এগুলো শুধু রক্ষণাবেক্ষণ। প্রকৃত লালন-পালন মানে হলো- নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখা।
– নারীর আর্থিক স্বকীয়তা ও ভ্রান্ত ধারণা: নারীর জন্য ব্যক্তিগত আর্থিক স্বকীয়তা একটি স্বীকৃত অধিকার। কিন্তু নারীবাদ একে এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন ঘরের বাইরে কাজ করলেই কেবল এই অধিকার অর্জন সম্ভব। অথচ ইসলাম নারীর জন্য মোহরানা, উত্তরাধিকার, উপহার ইত্যাদির মাধ্যমে বৈধভাবে আয়ের সুযোগ দিয়েছে।
– নারীদের মধ্যে অর্থনৈতিক অজ্ঞতা: আমাদের নারীরা অর্থনৈতিক শিক্ষায় অনেকটা পিছিয়ে। ফলে তারা তাদের আয়-সম্পদ সঠিকভাবে বিনিয়োগ করতে বা তা থেকে ধীরে ধীরে ছোট পরিসরে হলেও সম্পদ গড়তে অক্ষম। অবশ্য সমাজভেদে যেমন মিশরের মেয়ের মোহর সৌদির তুলনায় অনেক কম। ঠিক তেমনি গৃহবন্দি অবস্থায়ও নারী হাতের কাজ, অনলাইন ব্যবসা কিংবা প্রয়োজনে বাহিরে কাজ করে কিছু আয় করতে পারে। কিন্তু এই আয়-ব্যয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার জ্ঞান আজ বড় একটা অনুপস্থিত।
– জীবনের ধাপ ও নারীর আসল মূল্য: নারীরা প্রায়ই নিজেদের মূল্য নির্ধারণ করেন তাদের চাকরির পদবি বা বাহ্যিক অর্জনের ভিত্তিতে। অথচ জীবনের প্রতিটি ধাপ বা মৌসুমের ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্ব থাকে। মা হওয়া কোনো ছোটো কাজ নয়। তবে এটিও যেন একমাত্র মূল্যবোধের মানদণ্ড না হয়— এটাই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন।
– পশ্চিমা ধোঁকা ও বাস্তবতা: পশ্চিমারা আজ মুসলিম সমাজকে এমন আদর্শ মানতে বাধ্য করছে, যা তাদের নিজেদের সমাজেই বিপর্যয় ডেকে এনেছে। তারা নারীদের ঘর থেকে বিচ্ছিন্ন করতে নানা প্রকল্পে অর্থ ঢালছে। নারীদের তাদের মাতৃত্ব ও পারিবারিক ভূমিকাকে ছোটো করে দেখতে শেখাচ্ছে। অথচ তাদের নিজেদের সমাজে আজ বৃদ্ধ নারীরা রোজগারের জন্য কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সন্তানরা তাদের খোঁজ রাখে না, পরিবারের কোনো বন্ধন নেই।
ড. আলা নাসিফ এর এই সাক্ষাৎকারটি পরিবার, মা হওয়া, লালন-পালন, পুঁজিবাদ ও নারীবাদের প্রভাব নিয়ে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। কিছু শব্দচয়ন বা উপস্থাপনায় কিছু সামান্য সংশোধনের স্থানে থাকলেও, এটি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী, গুরুত্বপূর্ণ এবং দিকনির্দেশনামূলক একটি আলোচনা। মিশরীয় লেখিকা শায়মা হিশাম সা’দ এই রিভিউ তৈরি করেছেন। মাত্র দেড় ঘন্টার একটু বেশি আলোচনা। অন্তত বোনেরা শুনতে পারেন। বারাকাল্লাহ ফিকুম!
– ইলম একাডেমী, রাজশাহী-৬২০৩।