ইলমের পথে চলতে গিয়ে মতভিন্নতা হওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়; বরং এটি সালাফদের যুগ থেকেই বিদ্যমান। বহু তাবেঈন সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর নিকট জ্ঞান অর্জনের জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও বিনয়ের সাথে বসতেন, তাদের কাছে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতেন; তবুও অনেক বিষয়ে তারা তাঁদের সাথে মতভিন্নতা পোষণ করতেন।
একইভাবে ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর অনেক শিক্ষকের মতের বিরোধিতা করেছেন বিভিন্ন মাসআলায়। আবার ইমাম শাফেঈ, ইবনুল কাসিম এবং আশহাব (রাহিমাহুমুল্লাহ) বহু বিষয়ে ইমাম মালিকের সাথেও মতভিন্নতা করেছেন।
তবে এই মতভিন্নতা কখনোই তাদের মধ্যে অসম্মান, অহংকার বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করেনি। বরং প্রত্যেক ছাত্র ছিল আন্তরিক, নিষ্ঠাবান; তারা তাদের শিক্ষকের যথাযথ মর্যাদা দিত, তাঁর সামনে আদব রক্ষা করত এবং তার মজলিসে শিষ্টাচার বজায় রাখত।
এই আন্তরিকতা, আদব ও শ্রদ্ধার কারণেই তাদের ইলম, আমল এবং জীবন সবকিছুর মধ্যে বরকত প্রকাশ পেয়েছিল।
এ থেকে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, মতভিন্নতা সমস্যা নয়; সমস্যা হলো আদবের অভাব। যদি জ্ঞানের সাথে আদব, শ্রদ্ধা ও ইখলাস যুক্ত হয়, তবে সেই জ্ঞানেই বরকত নাযিল হয় এবং তা মানুষের জন্য কল্যাণের উৎসে পরিণত হয়।













