মালিক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি হাত নামানোর আগেই আকাশ অন্ধকার হয়ে গেল, চারদিক থেকে মেঘ জমে উঠল, আর এমন প্রবল বৃষ্টি নামল, যেন পানির মশক উল্টে দেওয়া হয়েছে! আমি বিস্ময়ে অভিভূত হলাম।
লোকটি মসজিদ থেকে বের হয়ে গেল, আর আমি তাকে অনুসরণ করলাম। সে গলিপথ পেরিয়ে এক বাড়িতে ঢুকল। বাড়িটি চেনার মতো কিছু ছিল না, শুধু মাটির দেয়াল। আমি দরজার পাশে সামান্য মাটি খুঁড়ে একটি চিহ্ন রেখে দিলাম।
পরদিন সকালে সেই চিহ্ন ধরে আবার সেখানে গেলাম।
দেখলাম, সেটি একজন দাস ব্যবসায়ীর বাড়ি। আমি বললাম, আমি তোমার কাছ থেকে একটি দাস কিনতে চাই। সে আমাকে লম্বা, খাটো, সুদর্শন অনেক দাস দেখাল।
আমি বললাম, না, না—এদের ছাড়া আর কেউ নেই?
সে বলল, না, এদের ছাড়া আর কেউ বিক্রির জন্য নেই।
আমি হতাশ হয়ে বের হচ্ছিলাম, হঠাৎ দরজার পাশে একটি কাঠের কুঁড়েঘর দেখলাম।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই কুঁড়েঘরে কেউ আছে?
সে বলল, যে আছে, সে কেনার উপযোগী নয়। আপনি তো দাস কিনতে এসেছেন, ও কোনো কাজে আসে না।
আমি বললাম, আমি তাকে দেখতে চাই।
সে তাকে বের করে আনল। দেখেই আমি চিনে ফেললাম; এই সেই লোক, যে গতকাল মসজিদে দুআ করেছিল!
আমি বললাম, আমি একে কিনব।
দাস ব্যবসায়ী বলল, আপনি হয়তো বলবেন আমি আপনাকে ঠকিয়েছি। বিশ্বাস করুন, সে কোনো কাজের না।
আমি বললাম, আমি একেই কিনব।
সে অতি সামান্য দামে তাকে আমাকে দিয়ে দিল।
আমার ঘরে পৌঁছালে দাসটি মাথা তুলে বলল, হে আমার মালিক, আপনি আমাকে কেন কিনলেন?
যদি শক্তি চান, আমার চেয়ে শক্তিশালী আছে।
যদি সৌন্দর্য চান, আমার চেয়ে সুন্দর আছে।
যদি দক্ষতা চান, আমার চেয়ে দক্ষ আছে।
তবে আমাকে কেন?
আমি বললাম, গতকাল বসরার সবাই মসজিদে দুআ করল, কিন্তু আল্লাহ কবুল করলেন না। আর তুমি মাত্র হাত তুলে দুআ করতেই আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করলেন!
সে বলল, হয়তো অন্য কেউ ছিল। আপনি কীভাবে নিশ্চিত?
আমি বললাম, আমি নিশ্চিত যে, তুমিই সেই ব্যক্তি।
সে জিজ্ঞেস করল, আপনি আমাকে চিনেছেন?
আমি বললাম, হ্যাঁ।
সে বলল, নিশ্চিত হয়েছেন?
আমি বললাম, হ্যাঁ।
মালিক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এরপর সে আর আমার দিকে তাকাল না। সে সোজা সিজদায় লুটিয়ে পড়ল, দীর্ঘ সিজদা করল। আমি তার কাছে ঝুঁকে পড়লে শুনতে পেলাম, সে বলছে- হে গোপন রহস্যের মালিক!
আজ তো সে রহস্য প্রকাশ পেয়ে গেল। গোপন ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর আর বেঁচে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এরপরই তার রূহ তার প্রতিপালকের কাছে ফিরে গেল।
শিক্ষা ও দুআ-
কী ছিল তার সেই গোপন রহস্য?
কী আমাদের গোপন আমল?
সে কোন স্তরের ইখলাসে পৌঁছেছিল, আর আমরা কোথায়?
হে আল্লাহ!
আমাদের ত্রুটিসমূহ ঢেকে দিন, আমাদের ভয়-আতঙ্ক থেকে নিরাপদ করুন। আমাদেরকে আপনার সেই বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন; যারা তাকওয়াবান, পবিত্র ও মানুষের চোখের আড়ালে থাকা প্রিয় বান্দা।
তথ্যসূত্র: সিফাতুস সফওয়া, (صفة الصفوة) ইমাম ইবনুল জাওযী রাহিমাহুল্লাহ।
অনুবাদ: আব্দুল হাকীম মাদানী
আল-ইলম ইন্সটিটিউট রাজশাহী।













