জান্নাতের কথা একবার গভীরভাবে ভেবে দেখুন…
একজন মুমিন কি কখনো ভেবে দেখেছেন, জান্নাতে প্রবেশের সেই মহামুহূর্তে পৃথিবীতে মানুষ যে বিষয়গুলো নিয়ে এত তুলনা, প্রতিযোগিতা, গর্ব ও অহংকার করত, সেগুলোর কোনো মূল্যই আর থাকবে না?
সেখানে মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হবে না সম্পদ, বংশ, খ্যাতি, অনুসারীর সংখ্যা কিংবা পার্থিব সাফল্য দিয়ে। বরং মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত হবেন তারা, যারা নিঃস্বার্থভাবে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য সত্যের পথে অবিচল থেকেছেন। পৃথিবীতে হয়তো তাদের নাম কেউ জানত না, মানুষ তাদের অবমূল্যায়ন করেছে, তুচ্ছ করেছে, কিংবা তাদের অবদানকে গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু আল্লাহর দরবারে প্রকৃত মর্যাদা কখনো হারিয়ে যায় না।
জান্নাতে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মানদণ্ড হবে বিশুদ্ধ ঈমান, আন্তরিক ইখলাস, তাকওয়া এবং রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে সম্পাদিত নেক আমল। সেখানে কোনো কৃত্রিম পরিচয়, বাহ্যিক চাকচিক্য বা দুনিয়াবি অর্জনের অহংকারের স্থান থাকবে না।
জান্নাতের নিয়ামত, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং সেখানে প্রিয়জনদের সঙ্গে পুনর্মিলনের কথা গভীরভাবে চিন্তা করলে দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট, অপমান, বঞ্চনা ও পরীক্ষাগুলো অনেকটাই তুচ্ছ মনে হয়। যে হৃদয় জান্নাতের আশা নিয়ে বাঁচে, তার কাছে দুনিয়ার কষ্ট স্থায়ী নয়; বরং তা চিরস্থায়ী সফলতার পথে সাময়িক পরীক্ষা মাত্র।
তাই নিজেকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিন, যে জান্নাতের প্রতিদান অনন্ত, তার জন্য কিছু ত্যাগ, কিছু ধৈর্য, কিছু কষ্ট এবং কিছু আত্মসংযম কখনোই বেশি নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ﴾
নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে প্রদান করা হবে। সূরা আয-যুমার, ৩৯:১০।
সুতরাং জান্নাতকে আপনার জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য বানান। কারণ দুনিয়ার প্রতিটি কষ্ট একদিন শেষ হয়ে যাবে; কিন্তু জান্নাতের সুখ কখনো শেষ হবে না।




