জীবনের পথে মানুষকে সবচেয়ে বেশি যে যুদ্ধটি করতে হয়, তা বাইরের কারও সঙ্গে নয়; বরং নিজের নফসের সঙ্গে। নফস কখনো গুনাহের দিকে আহ্বান করে, কখনো হারাম আকাঙ্ক্ষাকে সুন্দর করে তুলে ধরে, কখনো গীবত, অহংকার, হিংসা বা অন্য কোনো পাপকে তুচ্ছ বলে মনে করায়। এমন সময় নিজের হৃদয়কে একটি বাক্য বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত, ‘এটি আল্লাহর জন্য ছেড়ে দিন।’
যখন কোনো হারাম কাজের প্রতি মন আকৃষ্ট হয়, যখন কোনো নিষিদ্ধ আনন্দ হাতছানি দেয়, যখন কোনো গীবতের আসরে বসতে ইচ্ছে হয়, কিংবা যখন নফস কোনো অবাধ্যতার দিকে টেনে নিতে চায় তখন নিজের হৃদয়কে বলুন, ‘এটি আল্লাহর জন্য ছেড়ে দিচ্ছি।’
এই একটি কথা শুধু একটি সিদ্ধান্ত নয়; এটি ঈমানের পরিচয়। কারণ তখন মানুষ মনে করে মহান আল্লাহ আমাকে দেখছেন, আমার প্রতিটি কথা শুনছেন, আমার অন্তরের গোপন ইচ্ছাও তাঁর অজানা নয়। তিনি জানেন, আমি কী প্রকাশ করি এবং কী গোপন রাখি। এমনকি আমার হৃদয়ে যে ভালো বা মন্দ চিন্তাই আসুক না কেন, সবই তাঁর জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে।
এই অনুভূতি মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে থাকতে শক্তি দেয়। তখন সে জান্নাতের কথা স্মরণ করে, যে জান্নাত আল্লাহ তাঁর অনুগত বান্দাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। আবার সে ভয় করে, যদি আল্লাহর অবাধ্য অবস্থায় মৃত্যু এসে যায়, তবে সেই জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর প্রতিটি হারাম আনন্দ ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু তার পরিণতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। পক্ষান্তরে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো হারাম জিনিস ত্যাগ করলে হয়তো কিছু সময় কষ্ট হয়, কিন্তু তার প্রতিদান দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই কল্যাণ বয়ে আনে।
তাই যখনই নফস আপনাকে কোনো পাপের দিকে টেনে নিতে চাইবে, তখন নিজের হৃদয়কে দৃঢ়ভাবে বলুন,
‘এটি আল্লাহর জন্য ছেড়ে দিচ্ছি।’
হয়তো কেউ দেখছে না, কেউ জানছেও না; কিন্তু আল্লাহ দেখছেন। আর যে বান্দা মানুষের ভয় নয়, আল্লাহর ভয়ে কোনো গুনাহ ত্যাগ করে, সে কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
إنك لن تدع شيئًا لله عز وجل إلا بدلك الله به ما هو خير لك منه
অর্থাৎ, তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করলে, আল্লাহ অবশ্যই তার পরিবর্তে তোমাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন (মুসনাদ আহমাদ; হাদীসটি সহীহ)।
অতএব, জীবনের প্রতিটি প্রলোভনের মুহূর্তে এই একটি বাক্যকে নিজের সঙ্গী বানিয়ে নিন- ‘এটি আল্লাহর জন্য ছেড়ে দিচ্ছি।’
হয়তো সেই মুহূর্তে আপনি একটি আনন্দ হারাবেন, কিন্তু বিনিময়ে মহান আল্লাহ আপনাকে দেবেন অন্তরের প্রশান্তি, ঈমানের মাধুর্য, গুনাহ থেকে নিরাপত্তা এবং এমন প্রতিদান, যা আপনার কল্পনারও অতীত।




