যে সময় আখিরাতের কোনো কাজে ব্যয় হয় না, তা কি সত্যিই জীবন?
শাইখ আব্দুল করীম আল-খুযাইর (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন, “আজ মানুষ আল্লাহর অনুগ্রহে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যের জীবনযাপন করছে। তাদের অনেকেরই দিনের অর্ধেকেরও বেশি সময় অবসর কাটে। পাঁচ ঘণ্টা, কখনো তারও বেশি সময় তারা বসে থাকে টেলিভিশনের চ্যানেল বদলায়, মোবাইল স্ক্রল করে, সংবাদপত্র বা বিভিন্ন পৃষ্ঠা উল্টেপাল্টে দেখে। অথচ আখিরাতের জন্য কোনো কাজই করে না। এমন সময়কে প্রকৃত অর্থে ‘জীবন’ বলা যায় না।”
এখানে আমাদের সময়ের এক নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। আজ আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট সময়ের অভাব নয়; বরং সময়ের অপচয়।
একসময় মানুষ জীবিকার তাগিদে দিন-রাত পরিশ্রম করত। আজ প্রযুক্তি আমাদের অনেক কাজ সহজ করে দিয়েছে। কিন্তু সেই বেঁচে যাওয়া সময়ের বড় একটি অংশ ব্যয় হচ্ছে উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিং, অন্তহীন ভিডিও দেখা এবং অর্থহীন বিনোদনে। দিনের শেষে ক্লান্তি আসে, কিন্তু অর্জনের খাতা প্রায় শূন্যই থেকে যায়।
একজন মুমিনের কাছে সময় শুধু ঘণ্টা-মিনিটের হিসাব নয়; এটি আল্লাহর দেওয়া একটি আমানত। প্রতিটি মুহূর্ত হয় আমাদের আখিরাতের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “কিয়ামতের দিন বান্দার দুই পা নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে তার জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, সে তা কী কাজে ব্যয় করেছে।”
(জামে তিরমিযী)
এর অর্থ এই নয় যে, একজন মুসলিম কখনো বিশ্রাম নেবে না বা বৈধ বিনোদন করবে না। ইসলাম বিশ্রাম ও বিনোদনকে নিষিদ্ধ করেনি। কিন্তু যখন অধিকাংশ সময় এমন কাজে চলে যায়, যার কোনো দুনিয়াবি বা আখিরাতি উপকার নেই, তখন সেটিই উদ্বেগের বিষয়।
ভাবুন, প্রতিদিন যদি আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিন ঘণ্টা ব্যয় করি, তবে বছরে এক হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় চলে যায়। এই সময়ে একজন মানুষ কুরআন তিলাওয়াত শিখতে পারে, অসংখ্য বই পড়তে পারে, একটি নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারে, কিংবা নিজের ঈমান ও চরিত্রকে অনেক উন্নত করতে পারে।
তাই দিনের শেষে নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন আজ আমি সত্যিই বেঁচে ছিলাম, নাকি শুধু সময় পার করেছি?
কারণ জীবনের দৈর্ঘ্য নয়, বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করা সময়ই প্রকৃত জীবন। আর যে মুহূর্ত আল্লাহর স্মরণ, জ্ঞানার্জন, ইবাদত বা মানুষের উপকারে ব্যয় হয়, সেই মুহূর্তই মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।




