সঙ্গী বেছে নিন, কারণ সঙ্গীর প্রভাবেই গড়ে ওঠে আপনার জীবন-
যে ব্যক্তি সালাত আদায়কারীদের সঙ্গ গ্রহণ করে, সে সালাত আদায়ে আগ্রহী হয়। আর যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ও দায়িত্ব থেকে পলায়নকারীদের সঙ্গ গ্রহণ করে, সেও একসময় পিছিয়ে পড়ে। যে আপনার কাছে অন্যের কথা বহন করে আনে, সে আপনার কথাও অন্যের কাছে বহন করতে পারে। আর যে আপনার কাছে অন্যের দোষ ও গোপন বিষয় বর্ণনা করে, সে অন্যের কাছেও আপনার বিষয়ে কথা বলতে পারে।
অতএব, যারা সফলতার পথে এগিয়ে চলে, তাদের সঙ্গ গ্রহণ করুন, আপনিও সফলতার পথে এগিয়ে যাবেন। যারা মানুষকে সংশোধন করতে চায়, তাদের সঙ্গ গ্রহণ করুন, আপনিও নিজেকে সংশোধন করতে শিখবেন। আর যারা ভ্রষ্টতার পথে চলে, তাদের সঙ্গ গ্রহণ করলে আপনিও একসময় সেই পথে হারিয়ে যেতে পারেন।
কারণ মানুষ তার সঙ্গীর চিন্তা, আচরণ, অভ্যাস ও জীবনদর্শন দ্বারা কমবেশি প্রভাবিত হয়। সঙ্গীর প্রভাব সবসময় তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না; কখনো কখনো তা ধীরে ধীরে মানুষের চিন্তা ও চরিত্রের অংশ হয়ে ওঠে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ
মানুষ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর আদর্শ ও জীবনপদ্ধতির ওপর প্রভাবিত হয়। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন লক্ষ করে, সে কাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছে।
সূত্র: সুনান আবি দাউদ, ৪৮৩৩; জামে আত-তিরমিযি, ২৩৭৮। হাদিসটি হাসান হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
তাই বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে শুধু মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য, কথার মাধুর্য কিংবা সাময়িক উপকার দেখবেন না। দেখুন, তার সঙ্গ আপনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে সময় কাটালে আপনার ঈমান বাড়ছে, নাকি কমছে? ইলম ও আমলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে, নাকি অলসতা তৈরি হচ্ছে? আপনার চরিত্র সুন্দর হচ্ছে, নাকি গিবত, অহংকার ও অন্যের দোষচর্চার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে?
মনে রাখবেন, সঙ্গী শুধু আপনার অবসর ভাগ করে নেয় না, অনেক সময় আপনার চিন্তা, চরিত্র ও ভবিষ্যৎ পথচলাকেও প্রভাবিত করে।
তাই এমন মানুষকে সঙ্গী বানান, যার উপস্থিতি আপনাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যার আচরণ আপনাকে উত্তম হতে অনুপ্রাণিত করে এবং যার সঙ্গে থাকলে আপনি নিজের ভুল সংশোধন করতে উৎসাহ পান।
সঙ্গী বেছে নেওয়া মানে শুধু একজন মানুষকে বেছে নেওয়া নয়; বরং আপনি কোন পথে এগোতে চান, সেটিও বেছে নেওয়া।





