হাসান আল-বাসরী (رحمه الله) বলেছেন, এমন কোনো দিন নেই, যেদিন মালাকুল মাওত (মৃত্যুর ফেরেশতা) প্রত্যেক ঘরের দিকে তিনবার দৃষ্টি দেন। যাকে তিনি দেখেন যে, তার রিযিক পূর্ণ হয়েছে এবং তার নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেছে, তখন আল্লাহর আদেশে তিনি তার রূহ কবজ করেন।
অতঃপর যখন তার রূহ কবজ করা হয়, তখন পরিবারের লোকেরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। তখন মালাকুল মাওত যেন দরজার দু’পাশ ধরে বলেন, তোমাদের প্রতি আমার কোনো অন্যায় নেই। আমি তো কেবল আমার রবের আদেশ পালন করেছি। আল্লাহর কসম! আমি তার রিযিক কমাইনি, তার আয়ু শেষ করিনি এবং তার নির্ধারিত সময়ের এক মুহূর্তও কমাইনি। এসবই আল্লাহর নির্ধারণ। আর আমি আবারও তোমাদের কাছে আসব, বারবার আসব, যতক্ষণ না তোমাদের একজনও অবশিষ্ট থাকে।
প্রিয় পাঠক! উপরের কথাগুলো কয়েকবার পড়ুন। মৃত্যু কারও জন্য থেমে থাকে না। ধনী-গরিব, শাসক-প্রজা, তরুণ-বৃ্দ্ধ প্রত্যেকের জন্যই একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে। সেই সময় উপস্থিত হলে পৃথিবীর কোনো শক্তিই তা এক মুহূর্ত বিলম্বিত বা এগিয়ে দিতে পারে না।
মানুষ প্রায়ই মনে করে, তার হাতে এখনও অনেক সময় আছে। তাই সে তাওবা (التوبة) পিছিয়ে দেয়, নেক আমল পরে করবে বলে ভাবতে থাকে, মানুষের হক আদায়ে অবহেলা করে এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসাকে বিলম্বিত করে। অথচ মৃত্যু কোনো পূর্ববার্তা দিয়ে আসে না; নির্ধারিত মুহূর্তেই এসে উপস্থিত হয়।
তাই একজন মুমিনের উচিত প্রতিটি দিনকে আখিরাতের প্রস্তুতির দিন হিসেবে গ্রহণ করা। আল্লাহর আনুগত্যে জীবন অতিবাহিত করা, মানুষের অধিকার আদায় করা, গুনাহ থেকে তাওবা করা এবং প্রতিদিন নিজেকে এই প্রশ্ন করা, যদি আজই আমার জীবনের শেষ দিন হয়, তবে আমি কি আমার রবের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত?
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে মৃত্যুর পূর্বে আন্তরিক তাওবার তাওফীক দান করুন, ঈমানের ওপর অবিচল রাখুন এবং উত্তম পরিণতি (حسن الخاتمة) নসীব করুন। আমীন!
[উল্লেখ্য যে, এটি হাসান আল-বাসরী (رحمه الله)-এর একটি উপদেশমূলক বাণী, যা ইবনু আবিদ দুনইয়া-এর গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। এটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সহীহ হাদীস নয়; তাই একে হাদীস হিসেবে বর্ণনা করা উচিত নয়।]




