মহান আল্লাহর বাণী,
﴿إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا﴾
অর্থাৎ, নিশ্চয়ই আল্লাহ ঈমানদারদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করেন। (সূরা আল-হাজ্জ: ৩৮)।
এই আয়াতটি শুধু পড়ে চলে যাবেন না; একটু থামুন, হৃদয় দিয়ে অনুভব করুন। আল্লাহ বলছেন,
﴿إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا﴾
একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় আশ্বাস আর কী হতে পারে যে, তার রক্ষক, সাহায্যকারী ও পক্ষসমর্থক স্বয়ং আল্লাহ তাআলা!
জীবনের পথে আপনি অন্যায়ের শিকার হতে পারেন, ভুল বোঝাবুঝির সম্মুখীন হতে পারেন, অপবাদ, কটু কথা কিংবা অকৃতজ্ঞতার কষ্ট পেতে পারেন। অনেক সময় আপনি কারও উপকার করবেন, অথচ বিনিময়ে পাবেন অবহেলা বা কষ্ট। তখন মনে প্রশ্ন জাগে, আমার পক্ষে দাঁড়াবে কে?
এর উত্তর আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন,
﴿إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا﴾
এটি শুধু একটি সান্ত্বনাবাক্য নয়; এটি রবের পক্ষ থেকে এক অকাট্য প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ কোনো মযলুমের অশ্রু উপেক্ষা করেন না, কোনো ভাঙা হৃদয়ের দোয়া বিস্মৃত হন না এবং যে বান্দা তাঁর ওপর ভরসা করে, তাকে কখনো পরিত্যাগ করেন না।
তাই যখন আল্লাহ আপনার পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করেন, তখন প্রত্যেক মানুষের কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার প্রয়োজন হয় না। প্রত্যেক অপবাদ কিংবা অন্যায়ের জবাব দেওয়ারও দরকার হয় না। সময়মতো আল্লাহ নিজেই সত্যকে প্রকাশ করেন, সম্মানকে ফিরিয়ে দেন এবং অনেক সময় যারা আপনাকে নিচে নামাতে চেয়েছিল, তাদের মাধ্যমেই আপনার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করে দেন।
জীবনের প্রতিটি বন্ধ দরজা অকল্যাণের নিদর্শন নয়। অনেক সময় আল্লাহ এমন একটি পথ বন্ধ করে দেন, যা আপনার জন্য ক্ষতিকর ছিল। আবার এমন একটি দেরি করেন, যার পেছনে লুকিয়ে থাকে আরও সুন্দর সময়। তিনি কখনো কিছু কেড়ে নেন, যাতে আপনাকে আরও উত্তম কিছু দান করতে পারেন।
তাই অন্যায়কারীর প্রতিশোধ নেওয়ার চিন্তায় হৃদয়কে ক্লান্ত করবেন না। কারণ আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক। আপনার বুকের গভীরে লুকিয়ে থাকা কষ্ট, নীরব অশ্রু এবং ধৈর্য সবই তাঁর জানা।
বরং বারবার বলুন,
حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, আর তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।
মনে রাখবেন, মহান আল্লাহর সাহায্য সব সময় আমাদের প্রত্যাশিত রূপে আসে না। কখনো তিনি এমন বিপদ দূর করেন, যার অস্তিত্বও আমরা জানতাম না। কখনো হিংসুকের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন, কখনো অনুপস্থিতিতে আমাদের সম্মান সংরক্ষণ করেন, আবার কখনো সব দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এমন একটি দরজা খুলে দেন, যা কল্পনাতেও ছিল না।
আল্লাহর লুৎফ ও পরিকল্পনা অনেক সময় চোখে দেখা যায় না, কিন্তু ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই তাঁর প্রতি আস্থা হারাবেন না। সিজদাহ বাড়ান, যিকিরে অভ্যস্ত হোন, তাঁর সম্পর্কে উত্তম ধারণা রাখুন এবং বিপদ যতই কঠিন হোক, কখনো নিরাশ হবেন না।
যতবার আপনার বুক ভারী হয়ে আসবে, পৃথিবীকে আপনার বিরুদ্ধে মনে হবে কিংবা অন্যায়ের ভারে হৃদয় ক্লান্ত হয়ে পড়বে, ততবার এই আয়াতটি স্মরণ করুন,
﴿إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا﴾
এটিকে আপনার জীবনের ভরসা বানিয়ে নিন। কারণ যার অভিভাবক আল্লাহ, তাকে কেউ পরিত্যাগ করতে পারে না; যে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করে, তাকে কোনো ঝড় স্থায়ীভাবে ভেঙে দিতে পারে না; আর যে আল্লাহর সঙ্গে সত্যনিষ্ঠ থাকে, সে একদিন অবশ্যই তাঁর অপার হিকমত, রহমত ও সাহায্যের সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করবে।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে সেই বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাদেরকে আপনার রহমত আচ্ছাদিত করেছে, যাদের পক্ষ থেকে আপনি নিজেই প্রতিরক্ষা করেন। আমাদের অন্তরকে ঈমানের ওপর অটল রাখুন, আপনার প্রতি উত্তম ধারণা ও অটল ইয়াকীন দান করুন। নিশ্চয়ই আপনিই সর্বোত্তম অভিভাবক এবং সর্বোত্তম সাহায্যকারী। আমীন!
– আব্দুল হাকীম মাদানী
আল-ইলম ইন্সটিটিউট রাজশাহী।