সন্তানদের অন্তরে আরবী ভাষা ও ইবাদতের মর্যাদা কীভাবে গড়ে ওঠে-
আরবী ভাষা কখনোই সন্তান ও শিক্ষার্থীদের অন্তরে মহান হয়ে উঠবে না, তারা কখনোই এর ফযীলত, মর্যাদা ও জীবনে এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবে না; যতক্ষণ না তারা দেখে যে, পিতামাতারা নিজেরাই এই ভাষার কদর করেন, নিজেরা অন্তত কিছুটা হলেও তা শেখার চেষ্টা করেন, এবং অন্যান্য ভাষার ওপর আরবী ভাষাকে অগ্রাধিকার দেন ও সম্মান করেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো অনেক পিতা-মাতা তাঁদের সন্তানদের শৈশবকাল থেকেই অন্য ভাষা শেখাতে নিজেদের সমস্ত মনোযোগ, সময় ও অর্থ ব্যয় করেন,
অথচ সেই সম্মানিত ভাষা আরবী এর ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকেন; না আছে সম্মান, না আছে শিক্ষা।
এরপর যখন সন্তানরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যায় যেখানে পড়া-লেখা ও আরবী ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞতাই তাদের সফলতার পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়, আর তখন বলা হয় আরবী বিষয়ে ফেল মানেই পুরো বছর ফেল;
ঠিক তখনই তারা সন্তানদের এই ব্যর্থতা দেখে বিস্মিত হয়, এই অবহেলাজনিত ক্ষতির জন্য আফসোস করে,
এবং হুড়োহুড়ি করে খুঁজতে থাকে দশ বছর পূর্ণ করতে বসা সন্তানদের জন্য আরবী পড়া-লেখার শিক্ষক!
মূলতঃ সন্তানের আগ্রহ গড়ে ওঠে পিতামাতার আগ্রহ থেকেই। পিতামাতারা যে বিষয়ে যতটা আগ্রহী হন,
সাধারণত সন্তানরাও সে বিষয়ে ততটাই আগ্রহী হয়।
তাঁরা যে বিষয়ে যতটা যত্নবান হন, সন্তানরাও সাধারণত ততটাই যত্নবান হয়ে ওঠে। এটাই স্বাভাবিক, এটাই বাস্তবতা। যদিও প্রতিটি নিয়মের কিছু ব্যতিক্রম থাকেই।
সালাতের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা। এক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক একই রকম। যদি পিতামাতারা নিজেরাই সালাতে অবহেলা করেন, যদি তারা এতে গাফিলতি ও শৈথিল্য দেখান তবে সন্তানরা যে তার চেয়েও বেশি অবহেলা করবে, তা তো খুবই স্বাভাবিক।
অথচ আমি বিস্মিত হই পিতামাতারা কীভাবে সন্তানদের সালাত ও ইবাদতে অবহেলা দেখে অবাক হন, যখন তাঁরা নিজেরাই এসব থেকে সবচেয়ে দূরে!
এক বিস্ময়কর বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা বলি। এমন কত পিতা আমার কাছে আসেন, আমাকে অনুরোধ করেন, বরং জোর করেন যেন আমি তাঁদের সন্তানদের সালাতে যত্নবান হতে বলি, সালাত ছেড়ে না দিতে বুঝাই।
আমি তখন খুব স্বাভাবিক একটি প্রশ্ন করি, আপনি নিজে কি নিয়মিত সালাত পড়েন? আপনার স্ত্রী কি সালাতে যত্নবান? আর তখন আসে সেই হতবাক করা উত্তর, সত্যি বলতে কী… না।
তাহলে যে শিশু আদর্শ শিক্ষক পেল না, উত্তম আদর্শ পেল না, নমুনা পেল না; সে কোথা থেকে এই সব আগ্রহ নিয়ে আসবে? কোথা থেকে নামাযের মর্যাদা, গুরুত্ব ও যত্ন শিখবে? এটি সত্যিই বিস্ময়কর!
সুতরাং আপনারা যদি সন্তানদের কোনো বিষয়ে গড়ে তুলতে চান তাহলে আপনারাই আগে সেই বিষয়ে তাদের দূত ও আদর্শ হন। নিজেরা তা আঁকড়ে ধরুন,
নিজেদের অন্তরে তার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করুন, তবেই সন্তানদের অন্তরে সেটাকে মর্যাদাবান করা সহজ হবে।
তখনই তারা সেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও যত্নের আসনে বসাবে। ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হৌন। আমীন!
কৃতজ্ঞতার সাথে একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি উল্লেখ করি। মহান আল্লাহ আমার বাবা-মার ওপর অসংখ্যবার রহমত বর্ষণ করুন। হাজারবার, হাজারবার।
আমরা ছোটো থেকেই চোখ খুলেই দেখেছি আমাদের বাবা কখনো মসজিদের ফরয সালাত ছাড়তেন না,
আর আমাদের মা সালাতের জায়নামাজ ছেড়ে উঠতেন না।
ফলে সালাত আমাদের অন্তরে আপনাআপনি মহান হয়ে উঠেছিল। এটি আমাদের জন্য কঠিন কিছু ছিল না। আমরা সহজেই সালাতে যত্নবান হয়েছি,
এর মর্যাদা বুঝেছি, এবং শৈশবেই বালেগ হওয়ার আগেই সালাত আদায় করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক। বারাকাল্লাহু ফিকুম!
– আরবী থেকে অনূদিত।













