জ্ঞানচর্চার মূলনীতি হলো, প্রতিটি মাসআলা তার দলিলসহ অর্জন করা। তবে কোনো ইলমের মাসআলা যখন অনেক বেশি হয়ে যায় এবং তার আলোচনা দীর্ঘ হয়, তখন তার সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোতে সাধারণত দলিল উল্লেখ না করাই অধিক উপযোগী হয়ে ওঠে। ফিকহের অধিকাংশ মুখতাসার বা সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ এর উদাহরণ। যদিও কিছু ফিকহের সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে মাসআলাগুলোর সঙ্গে দলিলও উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন ইবনু কুদামাহ (রহ.)-এর উমদাতুল ফিকহ ও আল-কাফী।
কিন্তু উসূলুল ফিকহের ক্ষেত্রে এই প্রয়োজনীয়তা ফিকহের মতো এতটা প্রযোজ্য নয়। কারণ উসূলুল ফিকহ এমন একটি ইলম, যার মাসআলাগুলো তুলনামূলকভাবে সীমিত ও নির্দিষ্ট। তাই এ ক্ষেত্রে উত্তম পদ্ধতি হলো, কোনো মাসআলাকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি তার দলিলও উল্লেখ করা এবং ইলমকে সংরক্ষণ ও সুসংবদ্ধ করার জন্য যে সুন্দর মূলনীতি গ্রহণ করা হয়েছে, তার ওপর চলা।
শুধু পরবর্তী শরাহকারদের ওপর দলিলের আলোচনা ছেড়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। কারণ অধিকাংশ শরাহকার মূলত মাতনের বক্তব্য অনুসরণ করেই আলোচনা করেন। এ কারণে উসূলুল ফিকহের মাসআলাগুলোর দলিল অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে মুখতাসার ইবনুল হাজিব-এর ওপর রচিত কাজ এবং জাম‘উল জাওয়ামি‘-এর ওপর রচিত কাজের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়।
প্রথমটির ওপর পরিচালিত গবেষণা ও ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে দলিল ও হুজ্জতের আলোচনায় যে সমৃদ্ধি পাওয়া যায়, দ্বিতীয়টির ওপর পরিচালিত কাজগুলোতে তা একই মাত্রায় পাওয়া যায় না। কারণ জাম‘উল জাওয়ামি‘-এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো, মাসআলাগুলোকে তাদের দলিল থেকে পৃথক করে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা।
এটি ইলমের ইতিহাসের একটি প্রভাব। আর এই ঐতিহাসিক প্রভাব এমন ব্যক্তির জ্ঞানচর্চার অবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে, যে উচ্চস্তরের সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলো থেকেই কেবল জ্ঞানকে সুসংবদ্ধ করার চেষ্টা করে।
…
লেখাটির গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, সব ইলমের সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত নয়। ফিকহের ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক শাখা-মাসআলার কারণে মুখতাসারে শুধু মাসআলা সংরক্ষণ করা যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু উসূলুল ফিকহের মাসআলা তুলনামূলকভাবে সীমিত হওয়ায় সেখানে মাসআলার সঙ্গে তার দলিল ও হুজ্জত সংযুক্ত করে শেখানো অধিক ফলপ্রসূ।
অর্থাৎ, শুধু “কী বলা হয়েছে” জানা যথেষ্ট নয়; বিশেষত উসূলের মতো ইলমে “কেন বলা হয়েছে, কোন দলিলের ভিত্তিতে বলা হয়েছে এবং কীভাবে সেই দলিল থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে” সেটিও জানা জরুরি। এতে শিক্ষার্থীর জ্ঞান শুধু মুখস্থনির্ভর না হয়ে দলিল, যুক্তি ও বিশ্লেষণনির্ভর হয়।