সালাত ছেড়ে দেবেন না, সালাত আদায়ে অবহেলা করবেন না।
মানুষ দুনিয়ার অসংখ্য কাজে ব্যস্ত থাকে। মোবাইল, ঘুম, কাজ, বিনোদন কিংবা মানুষের সঙ্গে কথোপকথন, সবকিছুর জন্যই সে সময় বের করে নেয়। অথচ যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাতের আহ্বান আসে, তখন অনেকেই বলে, ‘একটু পরে পড়ব’, ‘কাজটা শেষ করে নিই’, ‘সময় তো এখনো আছে।’
এভাবেই এক ওয়াক্ত থেকে আরেক ওয়াক্ত, এক দিন থেকে আরেক দিন চলে যায়। ধীরে ধীরে সালাত দেরিতে আদায় করার অভ্যাস তৈরি হয়। অথচ মানুষ ভুলে যায়, সালাত কোনো ঐচ্ছিক কাজ নয়, এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ ইবাদত।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا﴾
অর্থ: নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে। (সুরা আন-নিসা, ৪:১০৩)।
একবার ভেবে দেখুন, দুনিয়ার কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে আপনি কত দ্রুত ছুটে যান! অথচ যিনি আপনাকে জীবন দিয়েছেন, রিজিক দিচ্ছেন এবং অসংখ্য নিয়ামতে আচ্ছাদিত করে রেখেছেন, তাঁর সামনে দাঁড়ানোর সময় হলে আপনি কেন পিছিয়ে পড়েন?
মনে রাখবেন, আপনার পরবর্তী সালাত পর্যন্ত বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা আপনার কাছে নেই। আজ যে মানুষটি অজু করে সিজদায় যেতে পারছেন, কাল হয়তো তিনিই অন্যের কাছে একটি স্মৃতি হয়ে থাকবেন। তখন আর নতুন করে আমল করার সুযোগ থাকবে না।
তাই সালাতকে জীবনের শেষ কাজগুলোর একটি বানাবেন না। বরং সালাতের সময়কে কেন্দ্র করে নিজের জীবন ও কাজের সময়সূচি সাজান। আজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিন, যথাসময়ে সালাত আদায় করবেন। প্রয়োজনে অ্যালার্ম দিন, কাজের বিরতি নির্ধারণ করুন এবং মোবাইলের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ»
অর্থ: মানুষের সঙ্গে শিরক ও কুফরের ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা। (সহিহ মুসলিম, ৮২)।
এই হাদিস সালাত ত্যাগের ভয়াবহতা সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা দেয়। তাই সালাতের ব্যাপারে অবহেলাকে কখনো সাধারণ কোনো ত্রুটি মনে করা উচিত নয়।
আর আপনি যদি নিয়মিত সালাত আদায় করেন, তাহলে শুধু দায়মুক্ত হওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে সালাত শেষ করবেন না। মনোযোগের সঙ্গে কিরাআত পড়ুন, রুকু-সিজদায় প্রশান্তি বজায় রাখুন এবং আল্লাহর সামনে নিজের অসহায়ত্ব ও প্রয়োজনগুলো তুলে ধরুন। সালাত যেন আপনার কাছে কেবল একটি দায়িত্ব নয়, বরং রবের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার মাধ্যম হয়ে ওঠে।
আর যদি ইতিমধ্যে অনেক সালাতে অবহেলা করে থাকেন, তাহলে হতাশ হবেন না। আল্লাহর কাছে তওবা করুন, সালাতের ব্যাপারে নিজের অবস্থান সংশোধন করুন এবং পরবর্তী সালাতটি যথাসময়ে আদায় করার মাধ্যমে নতুনভাবে শুরু করুন। অতীতের ভুল যেন ভবিষ্যতের সংশোধনের পথে বাধা না হয়।
প্রিয় ভাই ও বোন, মৃত্যুর পর ফিরে এসে সালাত আদায় করার আকাঙ্ক্ষা মানুষের কোনো উপকারে আসবে না। কিন্তু বেঁচে থাকতে তওবা করার, নিজেকে সংশোধন করার এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার দরজা এখনো খোলা।
তাই সালাতকে ভালোবাসুন, সালাতের হেফাজত করুন এবং আপনার পরিবারকেও সালাতের ব্যাপারে সহযোগিতা করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে যথাসময়ে সালাত আদায়কারী, সালাতে একাগ্রতা অর্জনকারী এবং মৃত্যু পর্যন্ত সালাতের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং ঈমানের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ লাভের সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।
সালাত ছেড়ে দেবেন না, সালাত পিছিয়ে দেবেন না। জীবন থাকতে রবের দিকে ফিরে আসুন। আজই আমল করার সময়, আগামীকাল আপনার জন্য কী অপেক্ষা করছে, তা আপনি জানেন না।





